নবম বেতন কাঠামো: বাস্তবায়ন ৩ ধাপে, গেজেট চলতি সপ্তাহে


মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় সরকারি চাকরীজীবীদের নবম জাতীয় বেতন কাঠামো তিন ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চলতি সপ্তাহেই এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে। সোমবার (৩১ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে এসে সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।

দীর্ঘ ১১ বছর পর নতুন বেতন স্কেল ঘোষণা করায় সরকারি কর্মচারীদের স্বস্তি মিললেও বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কিনা— এমন প্রশ্নে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আগের পরিস্থিতিতে চলা খুব কষ্টকর ছিল, জীবনযাত্রার মানও অনেক কমে গিয়েছিল। সেসব বিষয় বিবেচনায় রেখে দুই দিকে একটা ভারসাম্য আনার চেষ্টা করা হয়েছে। ব্যালেন্স তো সবসময়ই রাখতে হয়।

একযোগে সব টাকা না দিয়ে ধাপে ধাপে ছাড় করার পেছনে বাজারের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই মূল কারণ মন্তব্য করে তিনি বলেন, অবশ্যই ইনফ্লেশন নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়টি খেয়াল রাখা হয়েছে, না হলে তো একযোগেই পুরো টাকা দিয়ে দেওয়া হত।

তিনি বলেন, মানুষের হাতে টাকা না থাকলে অর্থনীতি তো ঘুরবে না। সরাসরি কৃষকের হাতে টাকা দেওয়া, ফ্যামিলি কার্ড কিংবা শিল্পীদের সহায়তা দেওয়ার উদ্দেশ্যই হলো বাজারে অর্থপ্রবাহ বাড়ানো। টাকা পাম্পিং হলে মানুষ কেনাকাটা করবে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে। এই পে স্কেলের ক্ষেত্রেও একই চিন্তা করা হয়েছে। যারা আগে কেনাকাটায় হিমশিম খাচ্ছিলেন, তারা এখন বাজারে গিয়ে বেশি কিনতে পারবেন; মাছ কিনতে না পারলে এখন মাছ কিনবেন।

বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত বাস্তবায়নের সময়সীমা তুলে ধরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “প্রথম ধাপে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে মূল বেতন কার্যকর হবে। এরপর ছয় মাস পর দ্বিতীয় ধাপ এবং পরবর্তীতে শেষ ধাপটি কার্যকর হবে। ভাতাসমূহ ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে একযোগে দেওয়া হবে।”

নতুন বেতন স্কেল নির্ধারণের ক্ষেত্রে কমিশন ও সরকারের দীর্ঘ পর্যালোচনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বেতন বৃদ্ধির একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া তো থাকেই। কিন্তু এবার পে কমিশন গঠন থেকে শুরু করে একাধিক মিটিং কেন করতে হলো? কারণ, অতিরিক্ত টাকার সংস্থান কোত্থেকে আসবে, বাজারে এর কী প্রভাব পড়বে আর না দিলেই বা কী হবে— এসব বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করা হয়েছে।

টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে নাসিমুল গণি বলেন, এসআরও জারি না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়। এ সংক্রান্ত নিয়ম বা পরিবর্তনগুলো আপনারা সময়ের সঙ্গে জানতে পারবেন। তবে এখনই কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা যাচ্ছে না, যতক্ষণ না এসআরও জারি হচ্ছে।

নতুন এই বেতন স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের বাড়তি প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকার সংস্থান কীভাবে হবে— এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এই টাকার হিসাবটা আগামী তিন বছরের জন্য ধরা হয়েছে, যা বাস্তবায়নের সঙ্গে সঙ্গে পর্যায়ক্রমে লাগবে। আগামী দুই বছরেই পুরো টাকা লাগছে না। তাছাড়া বরাদ্দের একটি বড় অংশ তো আমরা অলরেডি ব্যয় করছি।

সাংবাদিকদের ওয়েজ বোর্ড নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার পর ওয়েজ বোর্ডের বিষয়টিতেও একটা গতি আসবে। এটা আর এখন আগের মতো পড়ে থাকবে না।”

তবে প্রায় ৫ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী এই নতুন স্কেলের সুবিধা পাবেন কিনা, সে বিষয়ে এখনই কিছু জানাতে চাননি তিনি। বিষয়টি নিয়ে এখনই মন্তব্য করা সম্ভব নয়। এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত যথাসময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে,” বলেন নাসিমুল গনি।

বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *