গঙ্গার পানিচুক্তি নবায়নে পশ্চিমবঙ্গের শর্ত, কেন্দ্রকে রাজ্যের স্বার্থ রক্ষার দাবি


বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার শেষ হতে চলা ৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলে রাজ্যের সব রকম স্বার্থ রক্ষার দাবি তুলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

রাজ্যটির পানি, বন্দর ও শিল্প সম্পর্কিত স্বার্থ যেন কোনোভাবেই ক্ষুণ্ণ না হয়, চুক্তি নবায়নকালে তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় সরকারকে অনুরোধ করেছে তারা।

রাজ্যের এক জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রোববার বার্তা সংস্থা পিটিআই এ খবর দিয়েছে।

ওই কর্মকর্তার বরাতে খবরে বলা হয়, ভারতের কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রণালয়ের একটি অভ্যন্তরীণ কমিটির সাম্প্রতিক বৈঠকে রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিরা বিষয়টি উত্থাপন করেন। সেখানে রাজ্যের বিভিন্ন শিল্পে গঙ্গার পানির চাহিদার বিষয়টি বিস্তারিত তুলে ধরে একটি প্রতিবেদনও জমা দেওয়া হয়।

ওই কর্মকর্তা পিটিআইকে বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য হল, যে কোনো নতুন চুক্তিতে রাজ্যের ন্যায্য চাহিদাগুলো যেন সঠিকভাবে সংরক্ষিত হয় তা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে ভাগীরথী-হুগলি নদী ব্যবস্থার জন্য ভাটি অঞ্চলে পর্যাপ্ত পানির প্রবাহ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।”

খবরে বলা হয়, জলশক্তি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে রাজ্যের কর্মকর্তারা শুষ্ক মৌসুমে ফারাক্কা ব্যারেজের মাধ্যমে ভাগীরথী-হুগলি নদী ব্যবস্থায় পানির পর্যাপ্ত প্রবাহ বজায় রাখাকেই সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিয়েছে। কারণ হুগলি নদীতে পানি প্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে নদীপথে চলাচলে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এছাড়া ফারাক্কা ব্যারেজের উজান ও ভাটি উভয় অঞ্চলের মালদা, মুর্শিদাবাদ এবং নদীয়া জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রতি বছর নদীভাঙন দেখা দিচ্ছে।

পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া এবং আর্সেনিক দূষণ নিয়ে দুশ্চিন্তার বিষয়টির ওপরও গুরুত্বারোপ করেছে রাজ্য সরকার।

ওই কর্মকর্তা বলেন, “পানির প্রবাহ হ্রাস পাওয়া এবং পলি বা পলিমাটি জমার প্রভাব শুধু নদী ব্যবস্থার ওপরই পড়ছে না বরং নৌ চলাচল এবং বন্দরের ওপরও এর প্রত্যক্ষ প্রভাব রয়েছে। ভবিষ্যৎ পানিবণ্টন সংক্রান্ত আলোচনায় এই বিষয়গুলো মাথায় রাখা প্রয়োজন।

“কারণ অতিরিক্ত পলি জমার কারণে একদিকে যেমন ঘন ঘন বন্যা হচ্ছে, অন্যদিকে কলকাতার শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী বন্দরে জাহাজ চলাচলেও তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে।”

তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থতার মধ্যেই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে আগামী ডিসেম্বরে।

সম্পর্কের বর্তমান বাস্তবতায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, ভারত এই চুক্তি নবায়ন করবে কিনা। আবার ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম বলছে, পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার এই চুক্তি নিয়ে কী প্রতিক্রিয়া দেখায়, তার ওপরও নির্ভর করছে ভবিষ্যৎ।

কারণ তিস্তা নদীর পানিবণ্টনে ২০১১ সাল থেকে উভয় দেশের মধ্যে চুক্তির একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তির কারণে তা আটকে যায়।

গত ১৭ মে এনডিটিভিতে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে দেশটির কলামিস্ট মহুয়া চ্যাটার্জি বলেন, “গঙ্গা পানিবণ্টন’ চুক্তি নবায়নের আলোচনা হবে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকারের জন্য প্রথম ‘বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ সীমান্তের উভয় পাড়েই এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়।”

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *