বড় ঋণখেলাপিদের জন্য বড় ছাড়


খেলাপি ঋণ পরিস্থিতি

গত মার্চ শেষে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। ব্যাংকারদের মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরে ব্যাংক খাতে অনিয়ম, জালিয়াতি, প্রতারণা ও দুর্নীতির উচ্চমাত্রার প্রভাবেই খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পায়। এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, সিকদার, প্রিমিয়ার, বিসমিল্লাহ গ্রুপ, হল-মার্ক গ্রুপসহ কয়েকটি গোষ্ঠী এবং ন্যাশনাল, ইসলামী ও বেসিক ব্যাংকে সংঘটিত কেলেঙ্কারির ঘটনায় খেলাপি ঋণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ে। এ ছাড়া একীভূত পাঁচ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৮০ শতাংশের বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, গত ডিসেম্বর মাস শেষে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। মার্চ শেষে তিন মাসের ব্যবধানে বেড়েছে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা। তিন মাসের ব্যবধানে ঋণ বিতরণ বেড়েছে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা, অর্থাৎ ঋণ যা বেড়েছে, তার চার গুণ খেলাপি বেড়েছে।

মার্চ মাস শেষে দেশের ৬১টি তফসিলি ব্যাংকে মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা। তিন মাসের ব্যবধানে ঋণ বিতরণ বেড়েছে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। আর এখন মোট বিতরণ করা ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ খেলাপি হয়ে পড়েছে।

বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ব্যাংক খাত যে গহ্বরে নেমে গেছে, তা থেকে উদ্ধারে ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নিতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক সেই চেষ্টা করে যাচ্ছে। আগে অনিয়ম–লুটপাটের জন্য এমন সুযোগ দেওয়া হতো। এখন পরিস্থিতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের ঘুরে দাঁড়াতে এ সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, যারা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে, তাদের সে সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। তবে টাকা পাচারকারী ও অর্থ লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত রাখতে হবে। রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও অর্থনৈতিক সুশাসন বজায় রেখে এই নীতি প্রয়োগ করতে হবে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *