ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা: আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সড়ক অবরোধ
একজন ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু-এরপর মামলা হলেও কেটে গেছে প্রায় এক মাস। কিন্তু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবাই এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে সড়কে।
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ব্যবসায়ী মো. আজিবুর রহমান হত্যার ঘটনায় জড়িত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মৌচাক-জামালাপুর আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনরা।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার ঠাকুরপাড়া এলাকায় সড়ক অবরোধ করে তারা বিক্ষোভ করেন। এতে প্রায় এক ঘণ্টা ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে।
নিহত মো. আজিবর রহমান কালিয়াকৈর উপজেলার ঠাকুরপাড়া এলাকার মারফত আলীর ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুলাই রাতে ফটিকমার্কেট এলাকা থেকে অটোরিকশায় করে বাড়ি ফিরছিলেন আজিবর রহমান। পথে একই এলাকার শরিফ ও তার দুই ছেলে সাগর হোসেন ও সুমন তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় ধারালো দেশীয় অস্ত্র ও লোহার পাইপ দিয়ে তাকে মারধর করা হয়। হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় আজিবরকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করেন। পরে তাকে হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়।
দীর্ঘ চিকিৎসার পর গত ১৯ আগস্ট আইসিইউতে থাকা অবস্থায় আজিবর রহমানের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী নাসরিন আক্তার বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করলেও অন্যরা এখনো পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহতের স্ত্রী নাসরিন আক্তারের অভিযোগ, তার স্বামীকে হত্যার পরও ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাই গ্রেপ্তার না হওয়ায় পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।
তিনি বলেন, “আমার স্বামীকে তারা মেরে ফেলেছে। কিন্তু কেন হত্যা করল, সেটিও জানতে পারলাম না। শুনেছি আসামিরা এখনো এলাকাতেই অবস্থান নিয়ে রেখেছে। তবুও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। আমরা আসামিদের গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।”
এদিকে বিক্ষোভকারীদের দাবি, হত্যাকাণ্ডের এক মাস পার হলেও সব আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। দ্রুত পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় এনে হত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় একজন আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। বাকি আসামিরা ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
