মা-বাবা ভুল পথে চললে সন্তানের করণীয়


মা-বাবা সন্তানের সবচেয়ে আপন মানুষ। তাঁদের প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও সদাচরণ ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। কোরআনে আল্লাহর ইবাদতের নির্দেশের পাশাপাশি বারবার মা-বাবার সঙ্গে ভালো আচরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে কখনো মা-বাবা এমন কোনো কাজ করতে বলতে পারেন, যা আল্লাহর বিধানের পরিপন্থী। এমন পরিস্থিতিতে ইসলামের নির্দেশনা হলো—অন্যায় কাজে তাঁদের অনুসরণ করা যাবে না, তবে তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারও করা যাবে না।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমার পিতা-মাতা যদি তোমাকে আমার সঙ্গে এমন কিছুকে শরিক করতে পীড়াপীড়ি করে, যার সম্পর্কে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তাহলে তুমি তাদের আনুগত্য করবে না। তবে দুনিয়ায় তাদের সঙ্গে সদ্ভাবে বসবাস করবে।’ (সুরা লুকমান, আয়াত: ১৫)

অর্থাৎ মা-বাবা যদি আল্লাহর অবাধ্যতার দিকে আহ্বান করেন, সেই নির্দেশ মানা যাবে না। কিন্তু তাঁদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা বা অসম্মান করাও বৈধ নয়।

ভুল দেখলে কী করবেন

মা-বাবার ভুল সংশোধনের ক্ষেত্রে কঠোরতা বা অপমান নয়, বরং ভালোবাসা, যুক্তি ও কোমলতার আশ্রয় নিতে হবে। আল্লাহ তাআলা মুসা (আ.) ও হারুন (আ.)-কে ফেরাউনের মতো ব্যক্তির সঙ্গেও কোমল ভাষায় কথা বলতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। (সুরা ত্বহা, আয়াত: ৪৪)

তাই মা-বাবাকে বোঝানোর সময় তর্কে না গিয়ে সুযোগ বুঝে কোরআন-হাদিসের শিক্ষা তুলে ধরা উচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর অবাধ্যতার কাজে কোনো আনুগত্য নেই; আনুগত্য শুধু ভালো ও ন্যায়সংগত কাজে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭১৪৪)

ফলে মা-বাবা যদি হারাম উপার্জন, মিথ্যা বলা, জুলুম করা, অন্যের অধিকার নষ্ট করা বা ফরজ ইবাদত ছেড়ে দেওয়ার মতো কাজে নির্দেশ দেন, তা মানা যাবে না। তবে প্রত্যাখ্যান করতে হবে বিনয়ের সঙ্গে।

নিজের আমল দিয়েও দাওয়াত

মা-বাবাকে ভালো পথে ফেরানোর অন্যতম কার্যকর উপায় হলো নিজের জীবনকে আদর্শ হিসেবে তুলে ধরা। নিয়মিত নামাজ, সত্যবাদিতা, হালাল-হারাম মেনে চলা, তাঁদের সেবা এবং সুন্দর আচরণের মাধ্যমে সন্তান নীরব দাওয়াত দিতে পারে। সন্তানের ভালো পরিবর্তন মা-বাবার মধ্যেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই তাঁদের সংশোধনের পাশাপাশি নিজের আমল ও চরিত্র ঠিক রাখাও জরুরি।

মা-বাবার জন্য দোয়া

মা-বাবা ভুল পথে থাকলেও তাঁদের জন্য দোয়া বন্ধ করা উচিত নয়। বরং তাঁদের হেদায়াতের জন্য বেশি বেশি দোয়া করা উচিত। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে আমার রব! তাঁদের প্রতি দয়া করুন, যেমন তাঁরা শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছেন।’ (সুরা ইসরা, আয়াত: ২৪)

মা-বাবার ভুলের কারণে তাঁদের ঘৃণা বা সম্পর্কচ্ছেদ করা সমাধান নয়। ভুল কাজকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে, কিন্তু তাঁদের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা বজায় রাখতে হবে। ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষা হলো—হারাম কাজে আনুগত্য নয়, আবার মা-বাবার প্রতি অবমাননাও নয়। তাঁদের বৈধ কাজে সহযোগিতা, সুন্দর আচরণ, নিজের ভালো আমলের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন এবং তাঁদের হেদায়াতের জন্য দোয়া করাই সন্তানের করণীয়। জটিল কোনো পরিস্থিতিতে বিশ্বস্ত ও যোগ্য আলেমের কাছ থেকে নির্দিষ্ট বিষয়ে শরিয়তসম্মত পরামর্শ নেওয়া উত্তম।



বাপ্পি/সা.এ





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *