কোচিং বন্ধ, স্কুলে মোবাইল নিষিদ্ধ—কিশোরগঞ্জে প্রশাসনের কঠোর সিদ্ধান্ত


শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় কিশোরগঞ্জে শিক্ষা কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফেরাতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে আগামীকাল থেকে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জেলার সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন নিয়ে আসার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা মিলনায়তনে শিক্ষকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন। সভায় সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান মারুফ।

সভায় জেলার সার্বিক শিক্ষা পরিস্থিতি, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কম উপস্থিতি, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়মুখী করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, কিশোরগঞ্জে সাক্ষরতার হার ৬৭ শতাংশ, যেখানে জাতীয় পর্যায়ে এ হার ৭৯ শতাংশ। শিক্ষার ক্ষেত্রে এ ঘাটতি কমাতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি শিক্ষার্থীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা যাতে নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসে এবং শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ দিয়ে পাঠ গ্রহণ করে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় আরও জানানো হয়, টেস্ট পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হতে পারবে না, তাদের পরবর্তী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী করতে বিদ্যালয়ের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।

জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামীকাল থেকে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জেলার কোনো কোচিং সেন্টার পরিচালনা করা যাবে না। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন নিয়ে আসতেও নিষেধ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেলে শ্রেণিকক্ষের পাঠদান কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে। কোচিংনির্ভরতা কমিয়ে বিদ্যালয়কেন্দ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের এ উদ্যোগ শিক্ষা পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন আক্তার, সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা ও শিক্ষকরা।



রোহান/সা.এ.





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *