জ্বালানি ও ব্যাংক খাতে স্থিতিশীলতা সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত


ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, জ্বালানিতে অস্থিরতা এবং বিনিয়োগ ও ব্যবসায় আস্থার ঘাটতিসহ সার্বিক অর্থনৈতিক সংকটকে সরকার শুরুতেই স্বীকার করেছে, যা পরিস্থিতি মোকাবিলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ। একই সঙ্গে তারা বেসরকারি খাত ও অংশীজনদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, বিদেশিদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং নির্বাচনি ইশতেহারের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

এসব পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসরুর রিয়াজ। পাশাপাশি এ অর্থনীতিবিদ আগামী দিনে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট দূর, দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন, বিনিয়োগ পরিবেশের সংস্কার, বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সরকারের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, বিচ্ছিন্নভাবে ছোট ছোট উদ্যোগ নিয়ে বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, প্রয়োজন একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি এবং এর দ্রুত বাস্তবায়ন।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের ছয় মাস উপলক্ষে জাগো নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাসরুর রিয়াজ এসব পরামর্শ দেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বিশেষ সংবাদদাতা ইব্রাহীম হুসাইন অভি

সরকারের অর্ধবছরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় উত্তরাধিকারসূত্রে বেশকিছু শক্ত অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ পেয়েছে। যে কোনো অর্থনৈতিক সমস্যা মোকাবিলার প্রথম ধাপ হলো সমস্যাগুলো স্বীকার করা বা সেগুলো যথাযথভাবে চিহ্নিত করা। এক্ষেত্রে সরকারের একটি ভালো দিক হলো, তারা শুরু থেকেই অর্থনৈতিক সংকট, ব্যাংকিং সংকট, জ্বালানি সংকট এবং বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যে আস্থার যে সংকট রয়েছে— এসব বিষয় খোলাখুলিভাবে স্বীকার করেছে।

আগের বিভিন্ন সরকারের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, অনেক সময় তারা সমস্যাগুলো স্বীকার করতে চাইত না। ফলে সমস্যার সমাধান আরও কঠিন হয়ে যেত। বর্তমান সরকার অন্তত সমস্যাগুলোর স্বীকৃতি দিয়েছে। দ্বিতীয়ত, এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের অভিপ্রায় বা ‘ইনটেন্ট’ও বেশ পরিষ্কারভাবে প্রকাশ করেছে।

বেসরকারি খাতের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগের ক্ষেত্রে কী ধরনের পরিবর্তন দেখছেন?

এটিকে আমি সরকারের একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখবো। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় অর্থনৈতিক অংশীজন, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারী সম্প্রদায়ের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগ অনেক কমে গিয়েছিল। বর্তমান সরকার সেখানে একটি বড় পরিবর্তন এনেছে।

ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয় গত ৪ এপ্রিল

প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন নীতিনির্ধারক বেসরকারি খাতকে যথেষ্ট সময় দিচ্ছেন। যারা অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি, সেই বেসরকারি খাত এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক অংশীজনকে নিয়মিতভাবে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। তাদের কথা শোনা হচ্ছে, মতামত দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে ও সেখান থেকে কর্মপরিকল্পনা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।

আমি মনে করি, গত এক দশকের মধ্যে সরকারপ্রধান পর্যায়ে বেসরকারি খাতকে সবচেয়ে বেশি সময় দেওয়া, তাদের কথা শোনা এবং তাদের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার একটি প্রবণতা আমরা এখন দেখছি। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সঙ্গে সরকারের সম্পৃক্ততা কীভাবে দেখছেন?

আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সঙ্গেও সরকারের ভালো ধরনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। যেমন, আইএমএফের (আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল) সঙ্গে নতুন একটি কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বা ইপিএ বাস্তবায়নের আলোচনা পুনরুদ্ধার হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এফটিএ (মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি) নিয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে এফটিএ স্বাক্ষরের উদ্যোগ রয়েছে।

চীনের সঙ্গেও বিভিন্ন অর্থনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে ভূমি প্রস্তুত বা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড শুরু হওয়াও ইতিবাচক বিষয়। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অংশীজনদের সঙ্গে সরকারের সম্পৃক্ততাকে আমি ইতিবাচকভাবে দেখছি।

নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকার কতটা এগিয়েছে বলে মনে করেন?

এটিও একটি ইতিবাচক দিক। বাংলাদেশে সাধারণত নির্বাচন হয়ে গেলে সরকারগুলো অনেক সময় তাদের ইশতেহারের দিকে আর খুব বেশি নজর দেয় না। কিন্তু বর্তমান সরকার তাদের ইশতেহারে যে ধরনের প্রতিশ্রুতি ও লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল, তার অনেকগুলোই অনুসরণ করা শুরু করেছে।

দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন, ফ্যামিলি কার্ড— এ ধরনের উদ্যোগের পাশাপাশি কৃষি খাতের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আমাদের দেশে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সবচেয়ে বড় কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রগুলোর একটি হলো কৃষি। তাই কৃষক ও কৃষির জন্য উদ্যোগ নেওয়াটিও গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এটি নতুন সমস্যা নয়। গত দু-তিন বছর ধরে বিভিন্ন ভুল নীতি ও সিদ্ধান্তের কারণে ধীরে ধীরে এই সংকট তৈরি হয়েছে।

এছাড়া বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি উদ্দীপনা কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এগুলোকে আমি সরকারের ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইতিবাচকভাবে দেখছি।

সরকারের কর্মকাণ্ডের কোন জায়গায় ঘাটতি দেখছেন?

যেখানে আরও বেশি কাজ করা দরকার ছিল, সেটি হলো সংস্কারের জায়গা। বিশেষ করে সার্বিক অর্থনৈতিক সংস্কার এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আরও দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন ছিল।

বর্তমানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এটি নতুন সমস্যা নয়। গত দু-তিন বছর ধরে বিভিন্ন ভুল নীতি ও সিদ্ধান্তের কারণে ধীরে ধীরে এই সংকট তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান যুদ্ধের পর বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে যে ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে এবং কয়েক সপ্তাহ আগে আমাদের একটি এফএসআরইউ (ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল) ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও প্রকট হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে গত ৪ আগস্ট সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) স্বাক্ষর হয়

কিন্তু ইরান যুদ্ধের আগেও আমরা জ্বালানি সংকটে ছিলাম। আমদানিনির্ভর জ্বালানি, উচ্চমূল্য ও সরবরাহের ঝুঁকির মধ্যে আমরা আগে থেকেই ছিলাম। অর্থাৎ সমস্যাটি আগে থেকেই ছিল। বিভিন্ন ঘটনা এটিকে আরও তীব্র করেছে।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত?

এখানে দ্রুত উদ্যোগ প্রয়োজন। স্থানীয় এবং অনশোর ও অফশোর (উপকূল ও সমুদ্রে) গ্যাস অনুসন্ধান এবং উত্তোলনে দ্রুত যেতে হবে। গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের যেসব চুক্তি নবায়নের প্রয়োজন, সেগুলো দ্রুত করতে হবে।

একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর একটি বড় পাইপলাইন গত দেড় বছর ধরে থমকে আছে। সেগুলো দ্রুত প্রকল্পে রূপান্তর করতে হবে। বেসরকারি খাতের যেসব প্রতিষ্ঠান এ ধরনের প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে চায়, তাদের সক্ষমতা ও প্রস্তাব দ্রুত যাচাই-বাছাই করে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করার দিকে যেতে হবে।

কাতারসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি চুক্তির বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। ফোর্স মেজরের (দৈব দুর্ঘটনা) কারণে যেসব দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে সমস্যা তৈরি হয়েছে, সেগুলোর পাশাপাশি আরও এক-দুই বা তিনটি দেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি চুক্তির বিষয় বিবেচনা করা যেতে পারে।

এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং স্থানীয় গ্যাস অনুসন্ধান— সব ক্ষেত্রেই বিনিয়োগ সহজ করতে হবে। এসব বিষয়ে সরকারের আরও দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন ছিল। এই জায়গায় আমরা কিছুটা ধীরগতি দেখতে পাচ্ছি।

ব্যাংক খাতে সরকারের ছয় মাসের কর্মকাণ্ড কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

ব্যাংক খাতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বেশকিছু কাজ করতে পারেনি। বিশেষ করে আর্থিক খাতের আইনি সংস্কারের ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, মানি লোন কোর্ট আইন, ব্যাংক কোম্পানি আইন এবং নতুন একটি ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি-সংক্রান্ত আইন— এ ধরনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার আমরা আশা করেছিলাম অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের মধ্যেই হয়ে যাবে। এগুলোর খসড়াও প্রস্তুত ছিল।

এরই মধ্যে যে পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেটি আরও দ্রুত এগিয়ে নিতে হবে। একই সঙ্গে অন্যান্য দুর্বল ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রেও যৌক্তিক অবসায়ন বা পুনর্গঠনের দিকে যেতে হবে।

কিন্তু এগুলো না হওয়াটা ব্যাপক হতাশার বিষয়। আমরা আশা করেছিলাম, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্রুত এসব আইন প্রণয়ন বা বিদ্যমান আইনের সংস্কার করবে এবং আর্থিক খাতের ভিত্তি আরও শক্ত করবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই জায়গায় আমরা প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখছি না।

দুর্বল ব্যাংকগুলোর বিষয়ে কী করা উচিত?

এরই মধ্যে যে পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেটি আরও দ্রুত এগিয়ে নিতে হবে। একই সঙ্গে অন্যান্য দুর্বল ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রেও যৌক্তিক অবসায়ন বা পুনর্গঠনের দিকে যেতে হবে।

অত্যন্ত দুর্বল ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু সরকারি বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তা দিয়ে টিকিয়ে রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এগুলো দ্রুত একীভূতকরণ, অধিগ্রহণ বা প্রয়োজন হলে অবসায়নের দিকে নিতে হবে। এই জায়গায় আমরা কিছুটা ধীরগতি দেখছি।

অত্যন্ত দুর্বল ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু সরকারি বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তা দিয়ে টিকিয়ে রাখার যৌক্তিকতা দেখেন না মাসরুর রিয়াজ

সার্বিক অর্থনৈতিক সংস্কারের ক্ষেত্রে সরকারের কী করা উচিত?

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বহুমাত্রিক সমস্যা রয়েছে। তাই আলাদা আলাদা বা বিচ্ছিন্নভাবে ছোট ছোট উদ্যোগ নিয়ে এসব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। এজন্য একটি সার্বিক অর্থনৈতিক সংস্কার ও সমস্যা সমাধানের কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।

শুধু কর্মসূচি নিলেই হবে না। সেটি বাস্তবায়নের কৌশল, পরিকল্পনা ও কীভাবে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে— সেই ‘রোলআউট’ পরিকল্পনাও থাকতে হবে। আমি মনে করি, ছয় মাসের মধ্যে অন্তত এই সার্বিক সংস্কার কর্মসূচির একটি সুস্পষ্ট কাঠামো তৈরি হয়ে যাওয়া উচিত ছিল। এই জায়গায়ও আমরা কিছুটা ধীরগতি দেখছি।

আগামী দিনে সরকারের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার কী হওয়া উচিত?

আমার মতে, প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত। বর্তমানে এটি অর্থনীতির সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি। দ্বিতীয় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত ব্যাংক খাত। যেসব ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান অত্যন্ত দুর্বল, সেগুলো সরকারি বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তায় টিকিয়ে রাখার পরিবর্তে দ্রুত একীভূতকরণ, অধিগ্রহণ বা যৌক্তিক অবসায়নের দিকে নিতে হবে।

তৃতীয়ত, বিনিয়োগ পরিবেশের জন্য একটি সার্বিক সংস্কার কর্মসূচি দিতে হবে। শুধু একাডেমিক আলোচনা বা সাধারণ সংস্কারের কথা বললে হবে না, বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নযোগ্য কর্মসূচি দিতে হবে। এর পাশাপাশি বাণিজ্য সক্ষমতা বাড়ানোর জন্যও একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন। শুধু একাডেমিক আলোচনা নয়, বাংলাদেশের বাণিজ্য সক্ষমতা কীভাবে বাস্তবে বাড়ানো যায়, তার নির্দিষ্ট রূপরেখা দিতে হবে।

কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে কী ধরনের উদ্যোগ প্রয়োজন?

কর্মসংস্থান এখন থমকে গেছে। শেষ পর্যন্ত বিনিয়োগ বাড়লে কর্মসংস্থান বাড়বে। কিন্তু তার আগে বিশেষ উদ্দীপনা বা স্টিমুলাস দেওয়ার সুযোগ আছে কি না, সেটিও বিবেচনা করা যেতে পারে।

একই সঙ্গে সরকারি খাতের বিনিয়োগগুলো কীভাবে নতুন করে সক্রিয় করা যায়, সেটিও দেখতে হবে। কোন সরকারি বিনিয়োগ প্রকল্পে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদে কতটা কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, প্রকল্পগুলোর মেয়াদ কত এবং কোন প্রকল্প দ্রুত কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে— এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সরকারি বিনিয়োগের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে।

আইএইচও/একিউএফ/এমএফএ



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *