সরকারি চাকরি জনগণের পাশে দাঁড়ানোর বড় সুযোগ: আইনমন্ত্রী
সরকারি চাকরিকে কেবল জীবিকার মাধ্যম হিসেবে না দেখে মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ হিসেবে নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, “দায়িত্ব পালনে আন্তরিকতা, সততা ও দক্ষতা থাকলে একজন কর্মকর্তা নিজের প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন।”
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সচিবালয়ে আইন ও বিচার বিভাগের উদ্যোগে পদোন্নতিপ্রাপ্ত এবং অবসরোত্তর ছুটিতে যাওয়া কর্মকর্তাদের সম্মানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, “একটি মন্ত্রণালয় ভালোভাবে চলার পেছনে শুধু মন্ত্রী বা সচিবের ভূমিকা থাকে না। দপ্তরের প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাজের সঙ্গে পুরো প্রতিষ্ঠানের সাফল্য জড়িয়ে আছে। যে যার দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করলেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব।”
তিনি বলেন, “অফিসের একজন কর্মচারী হয়তো মন্ত্রীর জন্য চা পরিবেশন করেন, আবার কেউ দরজা খুলে দেন। কাজগুলো দেখতে ছোট মনে হলেও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব রয়েছে। প্রত্যেকে নিজের দায়িত্ব আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করলে সামগ্রিকভাবে মন্ত্রণালয়ের কাজ এগিয়ে যায়। তাই সব পর্যায়ের কর্মীর অবদানকে সম্মানের সঙ্গে দেখা উচিত।”
নতুন করে পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের শুভেচ্ছা জানিয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, “পদোন্নতি যেমন আনন্দের, তেমনি এটি বাড়তি দায়িত্বেরও বিষয়। নতুন পদে দায়িত্বের পরিধি বাড়বে। ফলে আরো মনোযোগ, পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। মানুষের প্রত্যাশা পূরণে আইন ও বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।”
দীর্ঘ চাকরিজীবন শেষে অবসরোত্তর ছুটিতে যাওয়া কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “কর্মজীবনে তাদের অর্জিত অভিজ্ঞতা ও কাজের স্মৃতি বিভাগের জন্য মূল্যবান সম্পদ। নতুন কর্মকর্তারা তাদের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে পারবেন। দায়িত্ব পালনে তাদের অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”
পরে তিনি অবসরোত্তর ছুটিতে যাওয়া কর্মকর্তাদের সুস্বাস্থ্য ও শান্তিময় জীবন কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা, অতিরিক্ত সচিব এসএম এরশাদুল আলম, অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেম উল কায়েসসহ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
