চিকিৎসক নাফিসার মৃত্যু: শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার
ঢাকার ধানমন্ডিতে চিকিৎসক নাফিসা তাবাসসুম ধীপ্রার মৃত্যুর ঘটনায় তার চিকিৎসক স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িসহ চারজনের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
বাদীপক্ষের আবেদনে বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার মামলা প্রত্যাহারের আদেশ দেন বলে সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আবু শাহিন জানিয়েছেন।
এর আগে অবহেলাজনিত মৃত্যু, নির্যাতন ও ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের মাধ্যমে আলামত গোপনের অভিযোগে গত ১৬ জুন একই আদালতে মশিউর রহমান শাহ নামে একজন ধীপ্রার আত্মীয় পরিচয়ে মামলা করেন।
মামলায় ধীপ্রার স্বামী রহমত রশীদ, শ্বশুর বারডেম হাসপাতালের কার্ডিয়াক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মোহাম্মদ আব্দুর রশীদ, শাশুড়ি সিদ্দিকা সুলতানা ও স্যাটায়ার ওয়েবসাইট ইয়ার্কির সম্পাদক শিমু নাসেরসহ আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। আদালত সিআইডি পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেয়।
তবে গত ২৯ জুলাই মশিউর রহমান মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেন।
সেই আবেদনে বলা হয়, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মামলার ঘটনার বিষয়ে জানতে পেরে সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। গত ১৬ জুলাই ধীপ্রার বাবা আলাউদ্দিন আদালতে লাশ উত্তোলনের বিষয় অসম্মতি জ্ঞাপন করে আবেদন দাখিল করেন। ওই আবেদন আদালত নামঞ্জুর করার পর ধীপ্রার বাবা বাদীর সঙ্গে দেখা করে মূল বিষয় তাকে বলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাদী মামলার ঘটনার তথ্যগত ভুল সম্পর্কে অবগত হন। বাদী অন্যান্য সূত্রে জানতে পারেন, ধীপ্রা হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছে।”
‘তথ্যগত ভুল প্রকাশ পাওয়ায়’ মামলা প্রত্যাহারের আবেদনের কথা তুলে ধরেন মশিউর রহমান। সেই আবেদনের ওপর ১৯ অগাস্ট শুনানির দিনধার্য ছিল। এদিন শুনানি নিয়ে আদালত মামলা প্রত্যাহারের আদেশ দিল।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল, ধীপ্রাকে তিন দিন ধরে ধানমন্ডির বসতী গ্রিন আবাসনের ফ্ল্যাটে আটকে রাখার খবর পেয়ে গত ৪ জুন সেখানে যান তার মা। মেয়েকে তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখে তালা খুলে দেওয়ার অনুরোধ করেন। পরে কক্ষ থেকে বের হয়ে ধীপ্রা তার মাকে জড়িয়ে ধরে বলেন, ‘মা, আমি ভাত খাব’। এরপরই তিনি মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাকে দ্রুত কাছের কোনো হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। বরং বিলম্বের পর বারডেম হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রেমের সম্পর্ক থেকে সহপাঠী রহমত রশীদকে বিয়ে করেন ধীপ্রা। তাদের সংসারে দুই বছরের একটি ছেলে রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই ধীপ্রা পারিবারিকভাবে ‘শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের’ শিকার হচ্ছিলেন। এর ফলে তিনি তীব্র বিষণ্নতায় ভোগেন। সন্তান জন্মদানের পর ডিপ্রেশন ছাড়াও উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন।
“চিকিৎসক হওয়া সত্ত্বেও আসামিরা তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যায় অবহেলা করেন। পাশাপাশি এফসিপিএস পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হয়। মৃত্যুর আগে ‘ফিমেল ডক্টরস ইন বাংলাদেশ’ নামে একটি ফেইসবুক গ্রুপে পারিবারিক নির্যাতনের বিষয়ে তিনি পোস্ট করেছিলেন।”
বাংলাদেশ জার্নাল/জে
