রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর নিজের ইচ্ছের কথা জানালেন মির্জা ফখরুল
বিএনপি মনোনীত রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করতে চান তিনি। রাষ্ট্রপতি হওয়ার কথা কখনো ভাবেননি উল্লেখ করে তিনি এটিকে দলের সিদ্ধান্ত ও মহান আল্লাহর অশেষ মেহেরবানি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বুধবার (১৯ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা জানান মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, ‘আমি কখনো ভাবিনি যে রাষ্ট্রপতি হব। এটা দলের এবং মহান আল্লাহর অশেষ মেহেরবানি।’
রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ার পর নিজের ইচ্ছার কথা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি হলেও আমার ইচ্ছে আছে, আমি জনগণের পাশে থেকে সেবা করব।’
দলের সিদ্ধান্ত ও মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি জনগণের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা।

রাজনীতিতে যেভাবে মির্জা ফখরুল
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জন্ম ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়ি এলাকায়। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন একজন আইনজীবী। তিনি পাকিস্তান প্রাদেশিক আইনসভার সদস্য হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং এরশাদ সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যও ছিলেন।
বাবার পথ অনুসরণ করে রাজনীতিতে এলেও মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবনের শুরু ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে (ন্যাপ)। পরে শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরি ছেড়ে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন।
১৯৯০ সালে বিএনপিতে যোগ দেন মির্জা ফখরুল। ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর দলের জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে শুরু করেন। পর্যায়ক্রমে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পান তিনি।
২০১১ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব নেন মির্জা ফখরুল। এরপর ২০১৬ সালে বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে দলের মহাসচিব নির্বাচিত হন। এরপর থেকে তিনি বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পেরিয়ে এবার রাষ্ট্রপতি পদে দলের মনোনয়ন পেয়েছেন মির্জা ফখরুল। মনোনয়ন পাওয়ার পর জনগণের পাশে থেকে কাজ করার যে প্রত্যয় তিনি জানিয়েছেন, সেটিই এখন তার রাজনৈতিক জীবনের নতুন অধ্যায়ের অন্যতম প্রধান বার্তা হিসেবে সামনে এসেছে।
সাজু/নিএ
