পানি না থাকলে পবিত্র হওয়ার বৈধ উপায় কী


তায়াম্মুমের জন্য নির্দিষ্ট কিছু ওজর বা গ্রহণযোগ্য কারণ থাকতে হয়। যেমন:

১. পানির অনুপস্থিতি: ওজু বা গোসলের জন্য পর্যাপ্ত পানি না পাওয়া গেলে তায়াম্মুম করা নিয়ম। মহানবী (সা.) এক ব্যক্তিকে জামাতে নামাজ না পড়ে একা বসে থাকতে দেখে কারণ জিজ্ঞাসা করলেন। লোকটি বলল, ‘আমি অপবিত্র হয়ে পড়েছি (গোসল লাগবে), কিন্তু কোনো পানি নেই’। নবীজি (সা.) তাকে নির্দেশ দিলেন, ‘তুমি পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করে নাও, সেটাই তোমার জন্য যথেষ্ট।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৪৮)

২. অসুস্থতা বা ক্ষতির আশঙ্কা: অসুস্থ ব্যক্তি কিংবা ক্ষতের কারণে পানি ব্যবহারে যদি রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার বা জীবন সংশয়ের সম্ভাবনা থাকে, তবে তায়াম্মুম করা জায়েজ। আহত অবস্থায় এক সাহাবির গোসলের প্রয়োজন হলো এবং গোসল করার কারণে ক্ষত বেড়ে তিনি মারা যান। মহানবী (সা.) এই খবরে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “তায়াম্মুম ও মাসেহ করে নিলেই চলত।” (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৩৬)।

৩. তীব্র কনকনে ঠান্ডা পানি: পানি যদি তা এতটাই ঠান্ডা হয়ে থাকে যা গরম করার কোনো সুযোগ নেই এবং তা ব্যবহার করলে মৃত্যুর বা মারাত্মক শারীরিক ক্ষতির ঝুঁকি থাকে, তবে তায়াম্মুম করা অনুমোদিত। জাতে সালাসিলের যুদ্ধে প্রচণ্ড ঠান্ডার রাতে সাহাবি আমর ইবনুল আস (রা.) গোসলের বদলে তায়াম্মুম করে ফজরের নামাজের ইমামতি করেন এবং নবীজি (সা.) তা অনুমোদন করেছিলেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৩৪)



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *