‘ছায়া হয়ে থেকো’-তে সোহেল মণ্ডল ও সামিয়া অথই


একক নাটক ‘ছায়া হয়ে থেকো’-তে এই প্রথম জুটি বেঁধেছেন সোহেল মণ্ডল ও সামিয়া অথই। সোহেল-সামিয়া জুটির পাশাপাশি বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন এসএইচ শুভ্র, মিলি বাসার, হারুনুর রশীদ, রিয়াদ আহসান রনি, মিতু খান প্রমুখ।

‘ছায়া হয়ে থেকো’ একটি আবেগঘন প্রেম ও সম্পর্কের গল্প, যেখানে ভালোবাসার পাশাপাশি উঠে এসেছে পারিবারিক অহংকারবোধ, সামাজিক শ্রেণিবিভাজন, বন্ধুত্ব, ত্যাগ এবং আত্মউপলব্ধির মানবিক লড়াই।

নাটকের কাহিনীতে দেখা যাবে, রিয়াজ একটি প্রতিষ্ঠিত পরিবারের সন্তান। তার বাবা আলী আহমেদ পরিবার, বংশমর্যাদা ও সামাজিক সম্মানকে জীবনের সবচেয়ে বড় মূল্য মনে করেন। কিন্তু রিয়াজ ভালোবাসে মায়াকে। মায়া একজন শিক্ষিত, সংবেদনশীল তরুণী, যে মাকে নিয়েই বড় হয়েছে এবং যার পারিবারিক পরিচয় রিয়াজের পরিবারের চোখে ‘সম্মানজনক’ নয়। বাবার আপত্তি সত্ত্বেও রিয়াজ বিশ্বাস করে, মানুষের পরিচয় তার বংশে নয়, তার মন ও মানবিকতায়।

মায়ার জীবনকে আরও জটিল করে তোলে দীপ্ত। রিয়াজের শৈশবের ঘনিষ্ঠ বন্ধু দীপ্ত মায়ার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। মায়ার ব্যক্তিত্ব, সাহিত্যবোধ ও সরলতায় মুগ্ধ হয়ে সে তাকে ভালোবাসার কথা জানায়। কিন্তু মায়ার হৃদয়ের গভীরে তখন রিয়াজের জন্য তৈরি হয়েছে এক ভিন্ন অনুভূতি। ফলে তিনটি মানুষের ভালোবাসা, দ্বিধা ও বন্ধুত্ব একসময় একটি কঠিন আবেগঘন ত্রিভুজে পরিণত হয়।

দীপ্ত জানে মায়া রিয়াজকে ভালোবাসে। তবুও নিজের অনুভূতি থেকে পালাতে পারে না। অন্যদিকে রিয়াজ বন্ধুকে হারাতে চায় না, আবার নিজের ভালোবাসাকেও বিসর্জন দিতে প্রস্তুত নয়। মায়াও দ্বিধায় পড়ে কাউকে আঘাত না করে কীভাবে নিজের সত্যিকারের অনুভূতির কাছে সৎ থাকবে?

এই ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের সঙ্গে যুক্ত হয় দুই পরিবারের সামাজিক ও মানসিক চাপ। রিয়াজের বাবা সম্পর্কটি মেনে নিতে অস্বীকার করেন। কিন্তু একসময় নিজের অতীতের দিকে ফিরে তাকিয়ে তিনি উপলব্ধি করেন সমাজ ও পারিবারিক সম্মানের ভয়ে তিনিও একদিন নিজের ভালোবাসাকে হারিয়েছিলেন। সেই উপলব্ধিই তার চিন্তার পরিবর্তনের সূচনা করে।


অন্যদিকে দীপ্তও বুঝতে শেখে, ভালোবাসা মানেই প্রিয় মানুষকে পাওয়া নয়; কখনো কখনো ভালোবাসার সবচেয়ে বড় প্রকাশ হলো প্রিয় মানুষের স্বাধীন সিদ্ধান্তকে সম্মান করা এবং তার সুখের পাশে দাঁড়ানো।

শেষ পর্যন্ত কী রিয়াজ ও মায়া নিজেদের ভালোবাসার পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াবে? পারিবারিক বিরোধ, সামাজিক সংকোচ ও সম্পর্কের জটিলতা পেরিয়ে তারা নতুন জীবনের পথে কী এগিয়ে যাবে? আলী আহমেদও সন্তানের ভালোবাসা ও সাহসকে গ্রহণ করে নেবে? এর উত্তর জানতে হলে দেখতে হবে এই নাটকটি। ‘ছায়া হয়ে থেকো’ নাটকটি শুধু একটি প্রেমের গল্প নয় এটি ভালোবাসার স্বাধীনতা, সম্পর্কের দায়িত্ব, বন্ধুত্বের ত্যাগ এবং প্রজন্মের মানসিক পরিবর্তনের গল্প।

রহিম সুমন এর আগে নির্মাণ করেছেন নাটক ‘বংশপ্রদীপ’, ‘একাকী’, ‘প্রিয় ফুল তুমি’, ‘গোধূলীর আলো’, ‘মামলা মতিন’, ‘ভালোবাসি ভালোবাসি’, ‘নিরবে চেয়েছি তোমায়’, ‘ক্ষমা’, ‘শঙ্খ’, ‘সাবকনসাস’, ‘ছায়া হয়ে থেকো’, ‘এলোমেলো বাতাস’, ‘নাইনটি ডেজ’ সহ আরও বেশ কিছু নাটক।

নাটকটির বিষয়ে জানতে চাইলে পরিচালক রহিম সুমন বলেন, খুবই আনন্দের বিষয় যে, এই প্রথমবার নিজের লেখা নাটক নির্মাণ করলাম। যেটি আজ অন ইয়ার হবে। ‘ছায়া হয়ে থেকো’ নাটকটি মূলত একটি ত্রিভুজ প্রেমের পারিবারিক গল্প; যেটি আমাদের বর্তমান সমাজ ব্যবস্থা ও সোসাইটিতে বিদ্যমান। আশা করি নাটকটি সব দর্শকদের ভালো লাগবে।

নাটকটি ইতিমধ্যে এনটিভিতে প্রচার শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসআইপি





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *