হিরো মোটোকর্পের এক্সপালস ২০০ সিরিজ এখন বাংলাদেশে
বাংলাদেশে এক্সপালস ২০০ ৪ভি এবং এক্সপালস ২০০ ৪ভি প্রো বাজারে এনেছে বিশ্বের বৃহত্তম মোটরসাইকেল ও স্কুটার নির্মাতা হিরো মোটোকর্প। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির ১২ বছরের যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক যোগ হলো।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে নতুন এই মোটরসাইকেলের অনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটি জানায়, নতুন দুই মডেল বাজারে আনার মাধ্যমে বাংলাদেশে অন-রোড ও অফ-রোড অ্যাডভেঞ্চার মোটরসাইকেল সেগমেন্টে নিজেদের পোর্টফোলিও সম্প্রসারণ করেছে হিরো মোটোকর্প। একইসঙ্গে বিশ্বজুড়ে পরিচিত এক্সপালস প্ল্যাটফর্ম এখন বাংলাদেশের রাইডারদের জন্যও নিয়ে এলো প্রতিষ্ঠানটি।
অনুষ্ঠানে হিরো মোটোকর্পের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হর্ষবর্ধন চিতালে বলেন, “বাংলাদেশ আমাদের কাছে শুধু একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার নয়; এটি আমাদের বৈশ্বিক পরিচয় ও উৎপাদন কার্যক্রমেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গত ১২ বছর ধরে ‘হিরোর দেশ বাংলাদেশ’ দর্শনকে সামনে রেখে আমরা এ দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছি। নিলয় মোটরসের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে আধুনিক ম্যানুফ্যাকচারিং ফ্যাসিলিটি, সম্প্রসারিত সার্ভিস নেটওয়ার্ক এবং বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়ে আমরা এখানে একটি শক্তিশালী স্থানীয় ইকোসিস্টেম গড়ে তুলেছি।”
তরুণ ও অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় রাইডারদের জন্য তৈরি এক্সপালস ২০০ সিরিজে দুর্গম পথে চলার সক্ষমতা, দৈনন্দিন ব্যবহারের সুবিধা এবং আধুনিক রাইডিং প্রযুক্তির সমন্বয় রয়েছে।

দুই মোটরসাইকেলেই রয়েছে ১৯৯.৬ সিসি, ৪-ভালভ, সিঙ্গেল-সিলিন্ডার, অয়েল-কুলড ইঞ্জিন, যা ৮,৫০০ আরপিএমে ১৮.৯ বিএইচপি পাওয়ার এবং ৬৫০০ আরপিএমে ১৭.৩৫ এনএম টর্ক উৎপন্ন করে। এর সঙ্গে রয়েছে ৫-স্পিড ট্রান্সমিশন।
উল্লেখযোগ্য ফিচারগুলোর মধ্যে রয়েছে তিনটি এবিএস মোড—রোড, অফ-রোড ও র্যালি; ডুয়াল-পারপাস টায়ার; অ্যাডজাস্টেবল মোনো সাসপেনশন; এলসিডি ইনস্ট্রুমেন্ট ক্লাস্টার; ব্লুটুথ কানেক্টিভিটি; টার্ন-বাই-টার্ন নেভিগেশন; ক্লাস-ডি এলইডি প্রজেক্টর হেডল্যাম্প ও এলইডি ডিআরএল; ব্যাশ প্লেট; হ্যান্ডগার্ড এবং বাঞ্জি হুকসহ লাগেজ প্লেট।
এক্সপালস ২০০ ৪ভি দৈনন্দিন যাতায়াত ও হালকা ট্রেইল রাইডিংয়ের জন্য তৈরি। এতে রয়েছে ৮২৫ মিমি সিট হাইট, ২২০ মিমি গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স এবং ১৯০ মিমি ফ্রন্ট সাসপেনশন ট্রাভেল। এটি মেটালিক নেক্সাস ব্লু হোয়াইট রঙে পাওয়া যাবে।
এক্সপালস ২০০ ৪ভি প্রো আরও বেশি অফ-রোড সক্ষমতা সম্পন্ন। এতে রয়েছে প্রো অ্যাডজাস্টেবল সাসপেনশন, সামনে ২৫০ মিমি ও পেছনে ২২০ মিমি সাসপেনশন ট্রাভেল, ২৭০ মিমি গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স, ৮৯১ মিমি সিট হাইট, হ্যান্ডেলবার রাইজার এবং এক্সটেন্ডেড গিয়ার লিভার। এটি পার্ল ফেডলেস হোয়াইট রঙে পাওয়া যাবে।
বাংলাদেশে নিলয় মোটরস লিমিটেডের মাধ্যমে হিরো মোটোকর্পের মোটরসাইকেল বাজারজাত করা হয়। বর্তমানে দেশজুড়ে ৫৩০টির বেশি অনুমোদিত সেলস ও সার্ভিস আউটলেটের মাধ্যমে গ্রাহকদের সেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি নতুন মোটরসাইকেল কেনার সঙ্গে গ্রাহকেরা পাঁচ বছরের ওয়ারেন্টি ও ইন্স্যুরেন্স সুবিধা পাবেন।
‘এক্সপালস ২০০ ৪ভি’ এর দাম রাখা হয়েছে তিন লাখ ৩৫ হাজার টাকা। এক্সপালস ২০০ ৪ভি প্রো এর দাম পড়বে তিন লাখ ৬৫ হাজার টাকা।
ইএইচটি/এসআর
