গান-কবিতা-নৃত্যনাট্যে কবি মোহন রায়হানের ৭০ বছর উদযাপন
১৯৫৬ সালের ১ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন কবি মোহন রায়হান। গত ১ আগস্ট তাঁর ৭০তম জন্মদিন পূর্ণ হয়েছে। এ উপলক্ষে আলোচনাসভা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন, নৃত্যনাট্য, গান ও কবিতার মধ্য দিয়ে জন্মবার্ষিকী উদযাপন করেছে ‘মোহন রায়হান ৭০ বছর উদযাপন পরিষদ’।
সন্ধ্যায় জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় জন্মবার্ষিকীর এই আয়োজন। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি। ‘মোহন রায়হান ৭০ বছর উদযাপন পরিষদ’-এর আহ্বায়ক, লেখক ও গবেষক ড. সলিমুল্লাহ খানের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান আসাদ, কবি মতিন বৈরাগী, সাংবাদিক আবু সাইদ খান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক প্রমুখ।
একঝাঁক তরুণ সংগীতশিল্পীর উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। এরপর কবি মোহন রায়হানের বর্ণাঢ্য জীবনের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘অগ্নিপথের কবি’ প্রদর্শিত হয়। পাশাপাশি সংবর্ধনা গ্রন্থ ও ‘নির্বাচিত ১০০ কবিতা’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
নূরুল ইসলাম মণি বলেন, “আমি কবি মোহন রায়হানের দীর্ঘায়ু কামনা করি। তাঁর মতো কবি এ দেশের জন্য প্রয়োজন। তিনি আরও কবিতা লিখুন এবং দেশের সাহিত্যাঙ্গনে অবদান রাখুন—এই কামনা করি।”
কমরেড সাইফুল হক বলেন, “কবিরা না থাকলে এই পৃথিবী বাসযোগ্য হতো না। কবি মোহন রায়হান আমাদের সমাজ বিনির্মাণের জন্য প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন।”
অন্য বক্তারা বলেন, বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির বহুমাত্রিক বিকাশ এবং সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে কবি মোহন রায়হানের ভূমিকা অনন্য। তাঁর জীবন ও সৃষ্টিকর্মে দ্রোহ, প্রতিবাদ, প্রেম, মানবমুক্তি, সাম্য ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
ড. সলিমুল্লাহ খান বলেন, “মোহন রায়হানের জীবন বাংলাদেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতির ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাঁর সৃজন ও সংগ্রামের মূল্যায়ন এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর জীবনাদর্শ ও সাহিত্যকর্ম পৌঁছে দেওয়াই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।”
আলোচনা শেষে সাংস্কৃতিক পর্বে ছিল নৃত্যনাট্য, গান ও আবৃত্তি। অনুষ্ঠানে অংশ নেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, শিল্পী, সাংস্কৃতিক সংগঠক, শিক্ষাবিদ, গবেষক ও শুভানুধ্যায়ীরা।
সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কবি মোহন রায়হান ২০২৫ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।
বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম
