মাথাপিছু আড্ডার দাম | প্রথম আলো
ইলা কান খাড়া করে।
‘শোন।’
নীলা শোনে।
‘আমাদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ছে।’
নীলা মাথা নাড়ে। ‘ঠিকই বলছে।’
ইলা তার দিকে তাকায়। ‘কীভাবে?’
‘আগে এক ঘণ্টা বসতাম। আজ দুই ঘণ্টা বসব।’
‘ওটা ক্রয়ক্ষমতা?’
‘আমাদেরটা।’
ইলা হেসে ফেলে।
একটা বাস কালো ধোঁয়া ছেড়ে চলে যায়। কয়েক সেকেন্ড তাদের মাঝখানে শহরটা ঝাপসা হয়ে থাকে। তারপর আবার নীলাকে দেখা যায়।
ইলা বলে, ‘মনে আছে, প্রথম দিন কত কিছু খেয়েছিলাম?’
‘মনে আছে।’
‘ফ্রায়েড রাইস।’
‘চিকেন ফ্রাই।’
‘কোল্ড ড্রিঙ্কস।’
নীলা বলে, ‘বিল।’
‘বিল আবার খাবার?’
‘আমার সবচেয়ে বেশি মনে আছে ওটাই।’
দুজন আবার হাসে।
কিছুক্ষণ পর ইলা বলে, ‘নীলা।’
‘হুঁ?’
‘আমরা কি তাহলে আর বাইরে খেতে আসি না?’
নীলা একটু ভাবে।
‘আসি তো।’
‘কী খাই?’
নীলা এবার বোনের দিকে তাকায়।
‘একে অন্যের মাথা।’
ইলা সঙ্গে সঙ্গে তার বাহুতে একটা চাপড় দেয়।
‘এগারো বছর ধরে খাচ্ছিস। পেট ভরে না?’
নীলা হাসতে হাসতে ইলার কাঁধে মাথা রাখে।
সামনে শহর ছুটছে। বাস, গাড়ি, হর্ন, ধুলো। ওপাশের টিভিতে দেশের অর্থনীতি নিয়ে আলোচনা তখনো চলছে।
রেস্তোরাঁ গেছে। ফুচকা গেছে। চায়ের কাপও গেছে।
মাসের দ্বিতীয় শুক্রবারটা যায়নি।
ওটার দাম এখনো কেউ ঠিক করতে পারেনি।
