চুয়াডাঙ্গায় স্ত্রী হত্যার দায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড
চুয়াডাঙ্গায় আলেয়া বেগমকে (৪০) ধারালো দা দিয়ে গলা কেটে হত্যার দায়ে তার স্বামী রহম আলীর (৬০) আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে চুয়াডাঙ্গার বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক শিমুল কুমার বিশ্বাস এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত রহম আলী চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের মৃত আবু তালেবের ছেলে।
আদালত সূত্র ও মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, প্রায় ২৫ বছর আগে রহম আলীর সঙ্গে আলেয়া বেগমের বিয়ে হয়। তাদের চার সন্তান আছে। আলেয়াকে বিয়ের আগে রহম আলীর আরো দুটি বিয়ে হয়েছিল। তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন এবং পারিবারিক কলহের জেরে বিভিন্ন সময় স্ত্রীকে মারধর করতেন।
২০১৫ সালের ১৪ নভেম্বর রাতে খাবার খেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়েন। রহম আলী ও আলেয়া একই ঘরের মেঝেতে ঘুমিয়ে ছিলেন। তাদের দুই মেয়ে লিপছিয়া ও হালিমা ওই ঘরের একটি কাঠের চৌকিতে ঘুমিয়ে ছিল।
পরদিন ভোর সাড়ে ৪টার দিকে দরজা খোলার শব্দে লিপছিয়ার ঘুম ভেঙে যায়। এ সময় সে তার বাবা রহম আলীর হাতে রক্তমাখা একটি গাছি দা দেখতে পায়। রহম আলী দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে যান। পরে লিপছিয়া চৌকির নিচে তার মায়ের গলাকাটা রক্তাক্ত দেহ দেখতে পায়। তার চিৎকার শুনে পরিবারের অন্য সদস্যরা ছুটে এসে আলেয়ার লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে প্রতিবেশীরাও ঘটনাস্থলে জড়ো হন।
এ ঘটনায় আলেয়ার ছেলে চাঁন মিয়া বাদী হয়ে তার বাবা রহম আলীর বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, পারিবারিক কলহের জের ধরে রহম আলী পরিকল্পিতভাবে ধারালো গাছি দা দিয়ে তার স্ত্রীকে হত্যা করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চুয়াডাঙ্গা সদর থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) মহসিন আলী জানিয়েছেন, তদন্তকালে ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা পাটি, বালিশ, মশারি ও কাপড়সহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়। পরে আলেয়ার লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বলেন, রহম আলীকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তিনি ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনা করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। ২০১৬ সালের ৪ মার্চ তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলায় ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে মঙ্গলবার রায় ঘোষণা করেন আদালত। রায়ে রহম আলীকে স্বাভাবিক মৃত্যু পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরো তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
মামলায় জব্দ করা আলামত রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করে আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
