আওয়ামী লীগ নেতা রাব্বানীর একক দরপত্র, সরকারের বাড়তি খরচ ৩ কোটি
পাঠ্যবই ছাপায় এবারও ছাপাখানা মালিকরা সিন্ডিকেট করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেক লটে একক দরপত্র (টেন্ডার) জমা পড়ায় অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে। এর মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা রাব্বানী জব্বারের আনন্দ প্রিন্টার্স লিমিটেড যেন এক ধাপ এগিয়ে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্র জানায়, আনন্দ প্রিন্টার্স এবার বই ছাপার টেন্ডারে অংশ নিয়েছে। অষ্টম ও নবম শ্রেণির ৮টি লটে এ ছাপাখানা প্রতিষ্ঠানটি দরপত্র জমা দেয়। সেখানে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতায় নামেনি। সুযোগ বুঝে এসব লটে সর্বোচ্চ দর হাঁকিয়ে কাজ বাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে আনন্দ প্রিন্টার্স।
পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করে জাগো নিউজকে জানান, অষ্টম ও নবম শ্রেণির বইয়ের প্রতি ফর্মা (৮ পৃষ্ঠা) প্রাক্কলিত দর ছিল ২ টাকা ৮৮ পয়সা। নিয়ম অনুযায়ী- এর ১০ শতাংশ কম ও সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বেশি দর দেওয়া যায়। নিয়মের এ সুযোগের অপব্যবহার করে একাই ৮টি লটে প্রাক্কলিত দরের চেয়ে ৮-৯ শতাংশ বেশি দর হেঁকেছে আনন্দ প্রিন্টার্স।
তিনি বলেন, ‘আনন্দ প্রিন্টার্স যে ৮টি লটে একক দরপত্র জমা দিয়েছে, তাতে ১৫ লাখেরও বেশি বই রয়েছে। এটা কয়েক কোটি ফর্মা। যদি তাকে এ কাজ দেওয়া হয়, তাহলে শুধু ৮ লটের বই ছাপাতে সরকারের বাড়তি ৩ কোটি টাকা খরচ হবে। প্রেস মালিকরা একে-অপরের সঙ্গে বোঝাপড়া করে লট ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। এ কারণে রাব্বানী জব্বারের আনন্দ প্রিন্টার্স যে লটগুলো পেয়েছে, সেখানে অন্যরা কেউ দরপত্র জমা দেননি। এত পাঠ্যপুস্তক বোর্ড অসহায়।’
রাব্বানী জব্বার সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের ছোট ভাই। তিনি ২০২১ সালে নেত্রকোনার খালিয়াজুরি উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বিগত আওয়ামী লীগ আমলে তিনি পাঠ্যবই ছাপার কাজ এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেন।

বিষয়টি নিয়ে জানতে আনন্দ প্রিন্টার্স লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী মো. রাব্বানী জব্বারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
বাতিল হচ্ছে আনন্দ প্রিন্টার্সের ৮ লটের বইয়ের টেন্ডার
সিন্ডিকেট করে একক দরপত্র জমা এবং তাতে কৌশলে প্রাক্কলিত দরের চেয়ে ৮-৯ শতাংশ দাম বেশি দেওয়ায় মূল্যায়নে বাদ পড়ছে এ দরপত্রগুলো। বাড়তি খরচ হবে জানিয়ে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি এ লটগুলো বাতিলের সুপারিশ করেছে। লটগুলো বাতিল হলে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হবে বলে জানিয়েছেন এনসিটিবির সদস্যরা।
এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা জাগো নিউজকে বলেন, ‘অষ্টম ও নবমের বইয়ের টেন্ডার ওপেন করার পর তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মূল্যায়ন করেছেন। এটি এখন সরকারি ক্রয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। সেখানে যদি কোনো লটের রি-টেন্ডার বা পুনঃদরপত্র আহ্বানের প্রয়োজন পড়ে, সেটা করা হবে। কাউকে সিন্ডিকেট করে লাভবান হতে দেওয়া হবে না।’
জানা যায়, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য মোট ৩০ কোটি ৯২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩৯ কপি পাঠ্যবই ছাপানো হবে। এরমধ্যে মাধ্যমিকের অষ্টম শ্রেণিতে তিন কোটি ৯৩ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৫ কপি এবং নবমে পাঁচ কোটি ৫৬ লাখ ২৭ হাজার ২৩৫ কপি বই ছাপানো হচ্ছে। এসব বই ছাপাতে মোট এক হাজার ৮৯০ কোটি ১৬ লাখ ৩৯ হাজার ৩২৮ টাকা ব্যয় হবে।
এএএইচ/কেএসআর
