স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টুর ‘আত্মগোপনের’ কারণ নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা
চাঁদপুরের স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাসের ‘আত্মগোপনে’ যাওয়ার প্রকৃত কারণ এখনো স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঋণগ্রস্ততা ও দেনার দায়ের কথা জানালেও কেন তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ‘আত্মগোপনে’ গেলেন, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য দেননি তিনি।
পিন্টু দাস ও তার পরিবারের সদস্যদের উদ্ধারের পর শুক্রবার বিকালে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব বলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে পিন্টু দাস ঋণগ্রস্ত এবং দেনার দায়ে ছিলেন- এমন তথ্য তিনি পুলিশকে দিয়েছেন। কিন্তু মূলত কী কারণে তিনি আত্মগোপনে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে এখনো পুরোপুরি মুখ খুলছেন না।
আত্মগোপনের প্রকৃত কারণ জানতে পিন্টু দাসকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন জানিয়েছে পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আপাতত তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তার বিরুদ্ধে গুরুতর কোনও অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তার দেখানো হবে।
১৯ অগাস্ট থেকে হঠাৎ পিন্টুর মোবাইল ফোন এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। একইসঙ্গে পিন্টুর স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যের সঙ্গেও স্বজনদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এক পর্যায়ে তাদের নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। এ অবস্থায় চাঁদপুর সদর মডেল থানার পুলিশ তাদের অবস্থান শনাক্তে অনুসন্ধান শুরু করে।
শুক্রবার ভোরে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ। পরে অভিযান চালিয়ে পিন্টু দাসসহ পরিবারের সদস্যকে হেফাজতে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া চাঁদপুর সদর মডেল থানার এসআই গাজী কালাম।
পুলিশ জানায়, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে একটি দল চাঁদপুরে এসে পিন্টু দাসকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। ওই জিজ্ঞাসাবাদে তার আত্মগোপনের কারণ এবং এর সঙ্গে অন্য কোনো বিষয় জড়িত আছে কিনা, তা জানার চেষ্টা করা হবে।
পুলিশের ভষ্য, শুধু ঋণগ্রস্ত ও দেনার চাপই পিন্টু দাসের আত্মগোপনের কারণ কিনা, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ফলে তার হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়া এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে আত্মগোপনে থাকার বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে।
পুলিশ বলছে, তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। পিন্টুর বক্তব্য এবং তদন্তে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করেই পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি ফয়েজ আহমেদ বলেন, পিন্টু দাস ও তার পরিবারের সদস্যদের উদ্ধারের পর তাদের আত্মগোপনে যাওয়ার কারণ জানতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে দেনা-পাওনা ও ঋণের বিষয়টি সামনে এলেও আত্মগোপনের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে কোনো গুরুতর অভিযোগ বা অপরাধের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ওসি ফয়েজ।
বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম
