কোটা দুর্নীতির অভিযোগকে ‘বানোয়াট’ বললেন সাবেক মন্ত্রী


মালয়েশিয়ার সাবেক মানবসম্পদমন্ত্রী এম. সারাভানান তার বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগকে ‘বানোয়াট ও ভিত্তিহীন’ আখ্যায়িত করেছেন। তিনটি অভিযোগে আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনের পর তিনি বলেছেন, মামলার প্রকৃত তথ্য আদালতেই প্রকাশ পাবে।

তাপাহ আসনের এমপি সারাভানান শুক্রবার স্থানীয় সেশনস কোর্টে তিনটি অভিযোগের বিরুদ্ধে নিজেকে নির্দোষ দাবি করার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে তিনি বিস্মিত হয়েছেন। মামলায় উল্লেখ করা ব্যক্তিদের অধিকাংশের সঙ্গেই তার কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

সারাভানান বলেন, ‘অভিযোগগুলোতে আমি বিস্মিত হয়েছি। এগুলো ভিত্তিহীন বলব না, তবে আমি বলব- এগুলো বানোয়াট অভিযোগ। প্রকৃত তথ্য আদালতেই উপস্থাপন করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আদালতে যাদের নাম বলা হয়েছে, তাদের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি তাদের চিনি না। শুধু সৈয়দ আমিরুলকে চিনি। তবে তার সঙ্গেও আমার কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক নেই। এসব বিষয় আদালতে আরও বিস্তারিতভাবে আলোচনা হবে।’ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন সাবেক এই মন্ত্রী।

সারাভানান বলেন, ‘দ্বিতীয়ত, আমাকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার এটাই যদি আপনাদের পদ্ধতি হয়, তাহলে তাপাহ আসনে আমার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য আপনাদের সেরা প্রার্থীকে পাঠান। একজন রাজনীতিককে হেয় করার জন্য এ ধরনের কৌশল ব্যবহার করবেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ নিয়ে আমার মোটেও লজ্জিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ সত্য ও তথ্য সামনে এলে আপনারাই বিব্রত হবেন। জনগণ দেখতে পাবে, কীভাবে মিথ্যা প্রমাণ দিয়ে আমাকে অভিযুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।’ তবে এ বক্তব্যে তিনি নির্দিষ্ট করে কারও নাম উল্লেখ করেননি।

এর আগে ৫৮ বছর বয়সী সারাভানানের বিরুদ্ধে তিনটি দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, টিওয়াইকেবি ইঞ্জিনিয়ারিং এসডিএন বিএইচডি-এর জন্য এক হাজার বিদেশি কর্মীর কোটা অনুমোদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়ে তিনি মোট ১০ লাখ ৯৭ হাজার রিঙ্গিত ঘুষ গ্রহণ করেছেন।

প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ২০২২ সালের ১৬ জুন বুকিত জলিল গলফ অ্যান্ড কান্ট্রি রিসোর্টসে ভেকটিকা রিসোর্সেস এসডিএন বিএইচডির পরিচালক তান তেক লিমের কাছ থেকে সৈয়দ আমিরুল সৈয়দ আহমাদের মাধ্যমে নগদ ১ লাখ ৫০ হাজার রিঙ্গিত গ্রহণ করেন সারাভানান।

দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, একই ব্যক্তির কাছ থেকে সৈয়দ আমিরুলের মাধ্যমে ২০২২ সালের ৭ জুলাই বানসারের জালান তেলাওয়ি ৩ এলাকায় আরও ৩ লাখ ৫০ হাজার রিঙ্গিত নগদ গ্রহণ করেন তিনি।

তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই একই দিনে তান তেক লিমের কাছ থেকে সৈয়দ আমিরুলের মাধ্যমে আরও ৫ লাখ ৯৭ হাজার রিঙ্গিত গ্রহণ করেন সারাভানান। এ অর্থ একটি মেব্যাংক ইসলামিক চেকের মাধ্যমে বিগ সেভেন ভেঞ্চারস এসডিএন বিএইচডির একটি হিসাবে জমা দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

তিনটি অভিযোগই মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৯-এর ১৬(এ)(বি) ধারায় আনা হয়েছে। একই আইনের ২৪(১) ধারায় এসব অপরাধের শাস্তির বিধান রয়েছে।

অভিযোগ প্রমাণিত হলে সারাভানানের সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। পাশাপাশি ঘুষ হিসেবে গ্রহণ করা অর্থের অন্তত পাঁচ গুণ জরিমানা অথবা ১০ হাজার রিঙ্গিত যেটি বেশি তা জরিমানা হিসেবে দিতে হতে পারে।

সারাভানান ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মালয়েশিয়ান ইন্ডিয়ান কংগ্রেস (এমআইসি)-এর ডেপুটি প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

এমআরএম

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি,
স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা
পাঠানোর ঠিকানা –
[email protected]



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *