ছাত্রশিবির এখন ছাত্র রাজনীতি ‘সংস্কারের’ পক্ষে


ক্যাম্পাসে রাজনীতি পুরোপুরি বাদ না দিয়ে তা সংস্কারের পক্ষে মত দিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের প্রশ্নে তিনি বলেছেন, দলীয় রাজনীতি বাদ দিলে তো এই প্রোগ্রামটা আপনাদের জন্য কেউ করতে পারত না। এগুলো বাদ দেওয়া ঠিক না।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘ফ্রেশার রিসেপশন অ্যান্ড ক্যারিয়ার গাইডলাইন’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

সাদ্দাম বলেন, মাথাব্যথা হয়েছে, মাথা কেটে দিলে তো আপনার অস্তিত্বই থাকবে না। তো মাথাটা রেখে কীভাবে এটাকে রিফর্ম করা যায়, সেই চিন্তাটা করা উচিত।

শিবির নেতা এস এম ফরহাদ জুলাই আন্দোলনের সময় ৯ দফার একটিতে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি যুক্ত করতে চেয়েছিলেন বলে এর আগে দাবি করেছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা আব্দুল কাদের।

তার ভাষ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের তৎকালীন সেক্রেটারি ফরহাদ সপ্তম দফায় ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ’ করার দাবি যুক্ত করতে চেয়েছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা ও বিতর্ক হয়। পরে দাবিটি ‘
দলীয় লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ’করার ভাষায় চূড়ান্ত করা হয়।

ছাত্রশিবিরের বর্তমান সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, তিনি মনে করেন, ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নীতিমালার আওতায় ‘কোড অব কন্ডাক্ট’থাকা উচিত।

সাদ্দাম বলেন, আমরা বলেছিলাম, ইউনিভার্সিটিতে একটা কোড অব কন্ডাক্ট থাকা উচিত। ইউনিভার্সিটির নিজস্ব পলিসির আন্ডারে ইউনিভার্সিটিতে পলিটিক্স চলা উচিত।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ছাত্রশিবির প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানান তিনি।

শিবির সভাপতি বলেন, ইউনিভার্সিটিটা হবে কমন প্লেস অব ভ্যালুস। এখানে প্রত্যেকটা পলিটিক্যাল স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশন তাদের আইডিওলজিক্যাল পারপাস স্টুডেন্টদের সামনে রিপ্রেজেন্ট করবে। স্টুডেন্ট এটা এক্সেপ্ট করতে পারে অথবা রিজেক্ট করতে পারে।

কাউকে জোর করে কোনো রাজনৈতিক দলের বা ‘মাদার পার্টির’ স্বার্থ বাস্তবায়নে মিছিল-মিটিংয়ে নেওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।


‘গণরুম’ও ‘গেস্টরুম’ সংস্কৃতির বিরোধিতা করে সাদ্দাম বলেন, কখনোই গণরুম এবং গেস্টরুম চালু করা যাবে না। যারা চালু করবে, সম্মিলিতভাবে তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যেতে হবে। আইডিওলজি বাস্তবায়ন হবে, তবে ক্যাম্পাসের স্বার্থে।

এক শিক্ষার্থী প্রশ্ন রাখেন, ক্যাম্পাসে লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি থাকলে নির্বাচিত প্রতিনিধি নিজ দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে রাজনীতি করবেন।

জবাবে শিবির নেতা নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, হ্যাঁ, তা তো স্বাভাবিক বিষয় যে, যার যার আইডিওলজি বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু সেটা ক্যাম্পাসের স্বার্থে হতে হবে।

তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের নেতার পোস্টার ক্যাম্পাসে সাঁটানো যাবে না। কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা আসলে তাদের নামে স্লোগান এখানে দেওয়া যাবে না।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট নিয়েও কথা বলেন শিবির সভাপতি। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কারা হলে থাকেন জানতে চেয়ে তিনি হাত তুলতে বলেন। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটের সমাধান না হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, ফার্স্ট ইয়ারের একজন স্টুডেন্ট মায়ের পেট ছেড়ে এই ইউনিভার্সিটিতে মেধার ভিত্তিতে চান্স পাওয়ার পরে কেন তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে হলে একটা সিট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৬০ বছরে দিতে পারবে না—এর জবাব কী আছে? এটা আমাদের এই শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য লজ্জা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সুবিধা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে সরকারের দুর্বলতা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, আপনাদের ইউনিভার্সিটির পরেও এই বাংলাদেশে অন্তত ৪০ থেকে ৪৫টা ইউনিভার্সিটি তৈরি হয়েছে। এতগুলো ইউনিভার্সিটি তৈরি করতে পারে, হাজার হাজার টিচার বরাদ্দ দিতে পারে, অথচ চিটাগাং ইউনিভার্সিটির পূর্ণতা তৈরি করার জন্য সরকারের যে দুর্বলতা—এই দুর্বলতা ইনটেনশনালি তৈরি করা হয়েছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *