অর্ডার ছাড়াই একের পর এক পার্সেল জয়ের ঠিকানায়, বিপাকে অভিনেতা


 

কোনো পণ্যই অর্ডার করেননি। অথচ একের পর এক ডেলিভারি ম্যান পার্সেল নিয়ে হাজির হচ্ছেন অভিনেতা ও উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয়ের বাসায়। এমনকি বিভিন্ন অনলাইন পেজ থেকেও ফোন করে পার্সেল দেওয়ার কথা জানানো হচ্ছে তাকে। হঠাৎ এমন ঘটনায় বেশ বিপাকে পড়েছেন এই অভিনেতা।

বিষয়টি নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন জয়। তার দাবি, অনলাইনভিত্তিক পণ্য ডেলিভারির একটি গ্রুপে কেউ তার ফোন নম্বর ও বাসার ঠিকানা ছড়িয়ে দিয়েছেন। এরপর থেকেই শুরু হয়েছে এই ভোগান্তি।

বুধবার নিজের ফেসবুক পোস্টে জয় লেখেন, ‘মানুষের ক্ষতি করার জন্য কেউ কেউ অকারণে ওত পেতে থাকে। আমি আশ্চর্য হয়ে গেলাম, আমার ফোন নাম্বার এবং বাসার এড্রেস প্রোডাক্ট ডেলিভারির অনলাইন গ্রুপে কেউ একজন সক্রিয়ভাবে দিয়ে দিয়েছেন বা এখনও দিয়ে যাচ্ছেন।’

জয় জানান, প্রথমে বিভিন্ন ডেলিভারি পেজ থেকে তার ফোনে একের পর এক কল আসতে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাধ্য হয়ে নম্বরগুলো ব্লক করে দেন তিনি। কিন্তু তাতেও সমস্যার সমাধান হয়নি। এরপর অর্ডার না করা বিভিন্ন পণ্য নিয়ে সরাসরি তার বাসায় আসতে শুরু করেন ডেলিভারি কর্মীরা।

এ প্রসঙ্গে জয় লেখেন, ‘অনবরত আমার ফোনে বিভিন্ন পার্সেল পেজ থেকে ফোন আসছে। আমি ফোন নাম্বার ব্লক করে রেখেছি। এরপর দেখলাম পার্সেল নিয়ে সরাসরি আমার বাসায় চলে আসছে ডেলিভারি ম্যান। একের পর এক। কোনো অর্ডার আমি করিনি।’

ঘটনাটিকে নিছক হয়রানি নয়, বরং সাইবার অপরাধ হিসেবে দেখছেন জয়। তার আশঙ্কা, এভাবে তার ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের বিপদ তৈরি করা হতে পারে।

জয় বলেন, ‘এটা এক ধরনের সাইবার ক্রাইম। যে আমার নাম্বার দিয়ে এই কাজটা করেছে কিংবা এখনও করছে তাকে ধরার জন্য আমি কী করতে পারি?’

নিজের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এই অভিনেতা। তার ভাষ্য, ডেলিভারির কথা বলে কেউ বাসায় এসে যদি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটায়, তাহলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে। তাই দ্রুত এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

জয়ের এই পোস্টের পর মন্তব্যের ঘরে নানা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নেটিজেনরা। অনেকেই তাকে আইনি সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি অচেনা কোনো পার্সেল গ্রহণ না করা এবং ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক থাকার কথাও বলেছেন কেউ কেউ।

তবে বিষয়টি নিয়ে কেউ কেউ মজাও করেছেন। এক নেটিজেন ডেলিভারি ম্যানকে আটকে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। আবার কেউ মন্তব্য করেছেন, ‘সবই ওমর সানি ভাইয়ের ষড়যন্ত্র।’ আরেকজন লিখেছেন, ‘অ্যাডলফ খান পেছনে লেগেছেন।’

তবে এসব মন্তব্যের কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি জয়। এ বিষয়ে তার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এমআই/এমএমএফ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *