আধুনিক যুদ্ধবিমান কেনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে: তথ্য উপদেষ্টা
সরকার দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরো শক্তিশালী করতে আধুনিক যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে বিভিন্ন ধরনের মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট, হেলিকপ্টার, ভিআইপি হেলিকপ্টার এবং অন্যান্য আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। চলতি অর্থবছরে বাজেট সহায়তা পাওয়া গেলে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে অগ্রগতি হবে। তা সম্ভব না হলে কিছু কার্যক্রম পরবর্তী বাজেটে নেওয়া হবে।”
তিনি বলেন, “আধুনিক যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা ও দর-কষাকষির পর্যায়েও অগ্রগতি রয়েছে। বাংলাদেশে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান যুক্ত করার বিষয়টি সরকার গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে।”
প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দেশের সংঘাত ও যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকেও আধুনিক যুদ্ধবিমান ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির গুরুত্ব স্পষ্ট হয়েছে।” চীনের তৈরি যুদ্ধবিমানও সাম্প্রতিক সংঘাতে কার্যকর সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “ইউরোপীয় বিভিন্ন যুদ্ধবিমানের তুলনায় চীনা যুদ্ধবিমানের মূল্য তুলনামূলক কম। ফলে বাংলাদেশের সামর্থ্য ও প্রয়োজন বিবেচনায় এ ধরনের যুদ্ধবিমান নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “জনগণের নিরাপত্তা ও দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। আধুনিকায়নের এই উদ্যোগকে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।”
ব্রিফিংয়ে তিনি সরকারের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় অবস্থান নিয়েও কথা বলেন। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক পরিবর্তনকে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’ হিসেবে উল্লেখ করার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের পরিবর্তনের মধ্যে কোনো তুলনা করা হচ্ছে না। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার গুরুত্ব ও মর্যাদা অনন্য।”
সাম্প্রতিক পরিবর্তনকে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’ বলার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “এর মধ্য দিয়ে দেশের বৈদেশিক নীতি, সামরিক নীতি ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিজেদের জাতীয় স্বার্থকে আরো স্বাধীনভাবে বিবেচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর আগে যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া বা কিছু বিষয়ে আলোচনা করাও সম্ভব ছিল না, এখন সেসব বিষয়ে জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।”
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, “আধুনিক যুদ্ধবিমান কেনার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা বিষয়ে বাংলাদেশ এখন নিজেদের প্রয়োজন ও সক্ষমতা বিবেচনায় আলোচনা করতে পারছে। এটিও সাম্প্রতিক পরিবর্তনের পর রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে নতুন বাস্তবতার একটি দিক।”
ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
