ইউপি নির্বাচন: জামানত বাড়ছে ৫ গুণ, ভোট বাতিলের ক্ষমতা পাচ্ছে ইসি


জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনেও প্রার্থীদের জামানত ও ব্যয়ের সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রায় দেড় দশক পর প্রার্থীর ভোটের ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ এবং জামানত পাঁচ গুণ করার এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে জামানত হিসেবে দিতে হবে ২৫ হাজার টাকা, যা আগে ছিল ৫ হাজার টাকা। অন্যদিকে সাধারণ ও সংরক্ষিত সদস্য পদে জামানত ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করা হচ্ছে।

আগে প্রদত্ত ভোটের এক-অষ্টমাংশ না পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার বিধান থাকলেও, এবার তা সুস্পষ্ট করে ১৫ শতাংশ ভোট পাওয়ার শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া প্রার্থীদের ব্যক্তিগত ও নির্বাচনি ব্যয় একীভূত করে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এতে চেয়ারম্যান প্রার্থীর সর্বোচ্চ ব্যয়সীমা প্রস্তাব করা হয়েছে ১০ লাখ টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর ব্যয়সীমা ধরা হয়েছে ২ লাখ টাকা।

নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ জানান, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন বিধিমালায় বেশ কিছু সংশোধনী প্রস্তাব ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সবশেষ ২০০৮ থেকে ২০১০ সালের দিকে ইউপি নির্বাচন আইন ও বিধিমালা তৈরি হয়েছিল।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত ও ব্যয়সীমা বাড়ানোর যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, মূলত তার ধারাবাহিকতাতেই ইউপি নির্বাচনেও এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ইসির এই উদ্যোগের বিষয়ে নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ও নির্বাচন বিশ্লেষক আবদুল আলীম বলেন, টাকার বর্তমান অবমূল্যায়নের কারণে জামানত ও ব্যয়সীমা বাড়ানোর যৌক্তিকতা রয়েছে। তবে এর একটি নেতিবাচক দিকও আছে; অনেক যোগ্য ও জনপ্রিয় ব্যক্তি শুধু টাকার অভাবে নির্বাচন থেকে ছিটকে পড়তে পারেন। তাই প্রার্থীদের ব্যয় তদারকিতে নির্বাচন কমিশনকে বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এ. এম. এম. নাসির উদ্দীনের নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশন জামানত বাড়ানোর পাশাপাশি বিধিমালা লঙ্ঘনে কঠোর শাস্তিরও প্রস্তাব করেছে।

মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ২১টি সংশোধনী প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে নির্বাচনি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের হুমকি দিলে বা বাধা দিলে শাস্তির বিধান, অনিয়মের প্রমাণ পেলে নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত করা, পুনরায় ভোট গ্রহণের ক্ষমতা এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে প্রার্থিতা বাতিলের মতো ইসির ক্ষমতা বৃদ্ধি।

এ ছাড়া দৃষ্টি বা শারীরিক প্রতিবন্ধী ভোটারদের ভোটদানে সহায়তার বিষয়টিও সুস্পষ্ট করা হয়েছে।

ইসি সূত্র জানিয়েছে, নতুন আচরণবিধির গেজেট ইতিমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। নির্বাচন পরিচালনা বিধির বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই চলতি মাসে ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের।

বাংলাদেশ জার্নাল/ওএফ





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *