এআই দিয়ে চিকিৎসকের কণ্ঠস্বর নকল করে ভুয়া ওষুধের বিজ্ঞাপন, গ্রেফতার ২
রাজধানীতে ইউরোলজিস্ট ও কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল ইসলামের ছবি, নাম, পরিচয় ও কণ্ঠস্বর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্যে নকল করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ও অননুমোদিত ওষুধের বিজ্ঞাপন প্রচার ও বিক্রির অভিযোগে প্রতারকচক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য জানান।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন তানভির আলম ওরফে রাহাত (২৩) ও মো. নুরনবী ইসলাম ওরফে মানিক (২৩)।
ডিবির বরাত দিয়ে নিয়াজ মেহেদী বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তিরা সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল ইসলামের ছবি, নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া ফেসবুক আইডি ও পেজ খুলে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জন করত। পরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির মাধ্যমে ওই চিকিৎসকের ছবি ও কণ্ঠস্বর নকল করে বিভিন্ন ভিডিও তৈরি করে প্রচার করা হতো।
এসব ভিডিও ও পোস্টে প্রস্টেট সমস্যা, শারীরিক ও যৌন দুর্বলতাসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার সমাধানের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ‘Prostulin F’ নামে একটি ওষুধের বিজ্ঞাপন ও বিক্রি করা হতো। জনপ্রিয় চিকিৎসকের পরিচয় ব্যবহার করায় সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে এসব পণ্য কিনে প্রতারিত হচ্ছে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে।
তিনি বলেন, অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল ইসলাম বিষয়টি জানতে পেরে তার ব্যক্তিগত সহকারীর মাধ্যমে আইনগত প্রতিকারের জন্য শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। এ ঘটনায় মামলা রুজুর পর ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম তদন্ত শুরু করে।
মামলাটি তদন্তকালে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রতারকচক্রের সদস্যদের শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে ১৮ ও ১৯ আগস্ট চট্টগ্রাম মহানগরের বায়েজিদ বোস্তামি ও পাঁচলাইশ থানা এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
এ সময় তাদের হেফাজত থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোন, চারটি সিম কার্ড এবং সাতটি ভুয়া ভেষজ ফুড সাপ্লিমেন্ট প্রোডাক্ট উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন। এ চক্রের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
ডিবির পরামর্শ
অনলাইনে কোনো ওষুধ বা স্বাস্থ্যপণ্য কেনার আগে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, হাসপাতাল বা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন ও বৈধতা যাচাই করতে হবে। শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিজ্ঞাপন কিংবা অপরিচিত ব্যক্তির কথা বিশ্বাস করে কোনো ওষুধ কেনা থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করতে হবে।
কেআর/কেএএ/
