ওয়ার্কশপের আড়ালে অস্ত্রের কারখানা, ৫ আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ


চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে সিএনজিচালিত অটোরিকশা মেরামতের ওয়ার্কশপের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে পেনগানসহ পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র, ২০ রাউন্ড গুলি এবং অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে হাটহাজারীর সরকারহাট বাজার এলাকায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।

অস্ত্র তৈরি, সরবরাহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে হাটহাজারী থানা পুলিশ। তারা হলেন— মো. জামাল হোসেন ওরফে জামাল মিস্ত্রি (৪৪) এবং মো. কবির (৪৭)।

পুলিশ জানিয়েছে, হাটহাজারীর বিভিন্ন এলাকায় দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করা হচ্ছে, এমন তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির ওপর নজরদারি শুরু করা হয়। গোয়েন্দা তথ্য যাচাই এবং অনুসন্ধানের ধারাবাহিকতায় সোমবার (৩১ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে মির্জাপুর ইউনিয়নের মনসুরাবাদ কলোনি এলাকায় অভিযান চালানো হয়।

হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে জামাল মিস্ত্রি ও কবিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের হেফাজত থেকে একটি অত্যাধুনিক পেনগান, চারটি দেশীয় পিস্তল, পেনগানের ১৮টি গুলি এবং পিস্তলের দুটি বুলেট জব্দ করা হয়।

জব্দ করা অস্ত্র ও গুলির বিষয়ে পুলিশ জানায়, পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে রয়েছে একটি পেনগান ও চারটি দেশীয় পিস্তল। এসব অস্ত্রের সঙ্গে মোট ২০ রাউন্ড গুলি পাওয়া গেছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজনের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হাটহাজারীর সরকারহাট বাজারে অবস্থিত ‘ওসমানের সিএনজি অটোরিকশা ওয়ার্কশপের’ আড়ালে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করা হতো।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সিএনজি অটোরিকশা মেরামতের প্রতিষ্ঠানটির আড়ালে অস্ত্র তৈরি করা হতো। এসব অস্ত্র দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রির জন্য সরবরাহ করা হতো বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতেই সরকারহাট বাজারের ওই ওয়ার্কশপে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম ও আলামত জব্দ করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, অস্ত্র তৈরির সঙ্গে জড়িত আরো কয়েকজনের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পলাতক ওসমানসহ সংশ্লিষ্ট অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধে জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অস্ত্র তৈরির কারখানা, অস্ত্রের উৎস এবং সরবরাহকারী চক্র শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, দেশীয় অস্ত্র তৈরি ও বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। অবৈধ অস্ত্রের উৎস চিহ্নিত করা এবং অস্ত্র সরবরাহের পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পুলিশের এই অভিযানে সিএনজি অটোরিকশা মেরামতের ওয়ার্কশপের আড়ালে অস্ত্র তৈরির কার্যক্রমের তথ্য সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জব্দ করা অস্ত্র ও সরঞ্জামগুলো পরীক্ষা করে অস্ত্র তৈরির কার্যক্রমের পরিধি এবং সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে আরো তথ্য বের করার চেষ্টা করছে পুলিশ।





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *