কখনো মেয়ে, কখনো ভাইঝি সাজিয়ে স্ত্রীকে একাধিক বিয়ে দিতেন স্বামী
নিজের স্ত্রীকে কখনো মেয়ে, আবার কখনো ভাইঝি পরিচয় দিয়ে পাত্রের সঙ্গে বিয়ে দিতেন এক ব্যক্তি। বিয়ের কিছুদিন পর নববধূকে নিয়ে পাত্রের টাকা ও সোনার গয়না হাতিয়ে পালিয়ে যেতেন তারা। এমন চাঞ্চল্যকর প্রতারণার অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গা এলাকায়।
কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক নববিবাহিত যুবকের অভিযোগের পর বিষয়টি সামনে আসে। ওই যুবকের দাবি, তাকে এক ব্যক্তি নিজের ভাইঝি পরিচয় দিয়ে এক নারীর সঙ্গে বিয়ে দেন। কিন্তু বিয়ের প্রায় এক মাস পর তিনি জানতে পারেন, যাকে তিনি বিয়ে করেছেন তিনি আসলে ওই ব্যক্তিরই স্ত্রী।
এরপর ওই যুবক থানায় অভিযোগ করেন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিয়ের জন্য পাত্রী খুঁজছিলেন ওই যুবক। ঘটকের মাধ্যমে এক নারীর সন্ধান পাওয়ার পর ছবি দেখে তাকে পছন্দ করেন তিনি। প্রায় এক মাস আগে একটি মন্দিরে তাদের বিয়ে হয়।
বিয়ের সময় ওই নারীর ‘চাচা’ পরিচয় দেওয়া ব্যক্তি তাকে আশীর্বাদ করেন এবং কন্যা সম্প্রদানও করেন। তিনি দাবি করেছিলেন, কনে তার একমাত্র ভাইঝি এবং পরিবারে তাদের আর কেউ নেই।
তবে বিয়ের কয়েক দিনের মধ্যেই সন্দেহ হয় নববিবাহিত যুবকের। খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, তার স্ত্রী আগে থেকেই বিবাহিত এবং যিনি কন্যা সম্প্রদান করেছিলেন, তিনিই আসলে ওই নারীর স্বামী। তাদের দুই মেয়েও রয়েছে বলে জানা যায়।
স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যরা অভিযুক্তদের ডেকে পাঠালেও তারা প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে অভিযোগকারী পুলিশের দ্বারস্থ হলে তদন্ত শুরু করে দেগঙ্গা থানা পুলিশ।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা স্বীকার করেছেন যে তারা স্বামী-স্ত্রী; চাচা-ভাইঝি নন।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ওই ব্যক্তি এর আগেও কখনো স্ত্রীকে নিজের ভাইঝি, আবার কখনো মেয়ের পরিচয় দিয়ে পাত্রপক্ষের সামনে হাজির করেছেন। একাধিকবার একই কৌশলে বিয়ে দিয়ে পাত্রপক্ষের কাছ থেকে টাকা ও সোনার গয়না হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
পুলিশের ধারণা, লোকলজ্জার ভয়ে আগের ভুক্তভোগীদের অনেকে থানায় অভিযোগ করেননি।
সবশেষে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ওই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়ে বারাসত মহকুমা আদালতে হাজির করা হয়েছে।
বাপ্পি/সা.এ
