কলকাতায় অগ্নিকাণ্ড: নিহত ৭ বাংলাদেশির মরদেহ আজই দেশে আনার প্রস্তুতি


ভারতের কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৭ বাংলাদেশি ও দুই ভারতীয়র মরদেহ আজ বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে আইনি ও সরকারি আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহগুলো স্ব স্ব পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

নিহত সাত বাংলাদেশির মধ্যে রয়েছেন একই পরিবারের চারজন। তারা হলেন কুষ্টিয়ার দেবাশীষ দত্ত (৩৯), তার স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), তাদের তিন বছরের ছেলে স্বর্ণশীষ দত্ত ও দেবাশীষের শ্বশুর মো. আকরাম আলি (৬৪)। বাকি তিন বাংলাদেশি হলেন ঢাকার সাভারের বাবু আহমেদ (৩৭) এবং সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের রেবতী সরকার ও এস এম আলিমুজ্জামান।

নিহত দুই ভারতীয় হলেন ঝাড়খণ্ডের সন্দীপ পাশওয়ান (১৯) ও শিলিগুড়ির যোগী নারায়ণ (৬৮)।

মরদেহ হস্তান্তরের পাশাপাশি বাংলাদেশি নাগরিকদের মরদেহ স্বদেশে ফিরিয়ে আনতে তৎপর রয়েছে কলকাতার বাংলাদেশ উপ-দূতাবাস ও কলকাতা পুলিশ। তাদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় আজই নিহত ৭ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পাঠানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ থেকে স্বজনদের অনেকে কলকাতায় এসে পৌঁছেছেন। এর মধ্যে কুষ্টিয়া থেকে দেবাশীষ দত্তের পরিবার এবং সাতক্ষীরা থেকে এস এম  আলিমুজ্জামান ও রেবতী সরকারের স্বজনেরা মর্গে উপস্থিত হয়ে মরদেহ গ্রহণের অপেক্ষায় রয়েছেন।    

নিহত দুই ভারতীয় নাগরিকের স্বজনরাও মরদেহ নিতে কলকাতা মেডিকেল কলেজ মর্গে অবস্থান করছেন।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে পাঁচতলা ভবনের ওই হোটেলের তিনতলায় এসি বিস্ফোরণ বা শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে পুরো ভবনে ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে ভেতরে আটকে পড়ে অনেকে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যান। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা অন্তত ৬০ থেকে ৭০ জনকে উদ্ধার করলেও, সাত বাংলাদেশি ও দুই ভারতীয়সহ মোট ৯ জনের মৃত্যু হয়।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিউ মার্কেট থানা ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) অনিচ্ছাকৃত খুনসহ একাধিক ধারায় একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেছে। পাশাপাশি দমকল বাহিনীর পক্ষ থেকেও আলাদা মামলা করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উপ-কমিশনারের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে।

তদন্তের অংশ হিসেবে বুধবার (১৯ আগস্ট) গভীর রাতে ‘শিখা ইন’ হোটেলের লিজ-হোল্ডার আবু জাফরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়া পার্শ্ববর্তী ‘যাপন’ নামক হোটেলের ম্যানেজার ও ওই হোটেলেরই এক কর্মী আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ‘যাপন’ হোটেলেরও লিজ হোন্ডার আবু জাফর।





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *