কলকাতায় হোটেল পেতে সমস্যা, তবু নিউমার্কেটে উপচে পড়ছে বাংলাদেশিদের ভিড়
কলকাতায় হোটেল পেতে সমস্যা হলেও নিউমার্কেট এলাকায় উপচে পড়ছে বাংলাদেশি পর্যটকদের ভিড়। গত ১৯ আগস্ট মির্জা গালিব স্ট্রিটে একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয়জন মারা যান। তাদের মধ্যে সাতজনই ছিলেন বাংলাদেশি পর্যটক। ওই ঘটনার পর কলকাতার হোটেল, মোটেল, গেস্ট হাউজগুলোতে অভিযান চালায় করে কর্তৃপক্ষ।
অভিযানে যেসব হোটেলে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়, সেসব হোটেলে বন্ধের নোটিশ টাঙিয়ে দেওয়া হয়। এতে বিপাকে পড়েন কলকাতায় যাওয়া বাংলাদেশি পর্যটকেরা। বিশেষ করে, ক্যানসারের চিকিৎসা করাতে যাওয়া অনেক বাংলাদেশি নাগরিককে ঠাকুরপুকুর ও মুকুন্দপুরের বিভিন্ন হাসপাতালের আশপাশে রাস্তায় রাত কাটাতে হচ্ছে।
তবে এর মধ্যেও দিন দিন কলকাতার নিউমার্কেটে বাংলাদেশি পর্যটক বাড়ছে। তাদের মধ্যে পর্যটন ভিসার তুলনায় মেডিকেল ভিসায় যাওয়া মানুষের সংখ্যাই বেশি।
বৃষ্টির মধ্যেও নিউমার্কেটে বাংলাদেশিদের ভিড়
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই কলকাতায় ঝিরঝির বৃষ্টি পড়ছিল। এর মধ্যেই একের পর এক বাস এসে থামছিল নিউমার্কেট এলাকায়। বাস থেকে নামছিলেন বাংলাদেশি পর্যটকেরা।
তাদের কয়েকজন জানান, নিউমার্কেট এলাকায় হোটেল পাওয়া যাচ্ছে না, বিষয়টি তারা শুনেছেন। তবে চিকিৎসার প্রয়োজনেই তাদের কলকাতায় যেতে হয়েছে।
অনেক বাংলাদেশি পর্যটক বাসে করে কলকাতার নিউমার্কেটে এসে সেখান থেকে বিমানবন্দর হয়ে চেন্নাই ও দিল্লিতে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
আবার কেউ কেউ বলছেন, হোটেলসংকটের কারণে তাদের চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত বাজেটের চেয়ে বেশি অর্থ খরচ করে থাকতে হচ্ছে।
হোটেলভাড়া বেড়েছে
বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা খোরশেদ আলম চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গেছেন। তিনি জাগোনিউজকে জানান, অগ্নিকাণ্ডের পর নিউমার্কেট এলাকার অনেক আবাসিক হোটেল বন্ধ হয়ে গেছে। কলকাতায় গেলে আগে এসব হোটেলের কোনো একটিতে থাকতেন। এবার অন্য একটি হোটেল পেয়েছেন। তবে ভাড়া স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি।
খোরশেদ আলম বলেন, তিনি চিকিৎসার জন্য গিয়েছেন এবং দুটি কক্ষ নিয়েছেন ২ হাজার ৮০০ রুপিতে। তার মতে, প্রতিটি কক্ষের ভাড়া ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ রুপির মধ্যে হলে তা স্বাভাবিক হতো।
তিনি আশাপ্রকাশ করেন, হোটেলগুলো আবার স্বাভাবিকভাবে চালু হলে ভাড়াও কমে আসবে।
চিকিৎসা ও ভ্রমণ একসঙ্গে
ঢাকার বাসিন্দা রাজা এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে চেন্নাইয়ে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার পথে কলকাতায় অবস্থান করছেন।
নিউমার্কেটে বাস থেকে নেমে তিনি বলেন, তারা আগে থেকে কোনো হোটেল বুক করে আসেননি। এখন কিছুটা খোঁজাখুঁজি করবেন। আশা করছেন, হোটেল পাওয়া যাবে।
রাজা জানান, তিনি ঘুরতে গেছেন। তবে তার ভাই গেছেন চিকিৎসার জন্য। চেন্নাই যাওয়ার পরিকল্পনা থাকায় কলকাতায় দীর্ঘ সময় থাকার কথা তারা ভাবেননি।
ডিডি/কেএএ
