ক্ষতের ওপর আরেক আঘাত: বন্যায় বিপর্যস্ত নেপালে এবার ভূমিকম্প!


এমনিতেই ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত নেপাল, তার ওপর এবার আঘাত হানল ভূমিকম্প। দেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে মাঝারি মাত্রার একটি ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ৯টা ৩৮ মিনিটে কেঁপে ওঠে এই অঞ্চল।

ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস) নিশ্চিত করেছে, রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৫। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৪৩ কিলোমিটার গভীরে। উৎপত্তিস্থল তুলনামূলক গভীরে থাকায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হলেও এই ঘটনা আতঙ্ক আরও বাড়িয়েছে।

অন্য দিকে, ভোতে কোশি নদীতে হঠাৎ সৃষ্ট মারাত্মক বন্যার পর টানা ১৪ দিন ধরে চলছে জরুরি উদ্ধার কাজ। নেপাল পুলিশের দেওয়া হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, দুর্যোগে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৩৬৬ জনে। নিখোঁজের তালিকাও দীর্ঘ এখনও সন্ধান মেলেনি ৪ হাজার ৭৭৭ জনের। নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ৩৫টি দেশের প্রায় ৬০০ জন বিদেশি পর্যটক ও নাগরিক রয়েছেন।

শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়ায় ফরেনসিক পরীক্ষা শেষে ১ হাজার ১৪৭টি মরদেহ ইতোমধ্যে সমাহিত করা হয়েছে। মাত্র ১০২টি লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হয়েছে। স্বজনহারা পরিবারগুলো পরিচয় নিশ্চিতের আশায় কাঠমান্ডুর পুলিশ হাসপাতালে ডিএনএ নমুনা জমা দিচ্ছে।

প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও উদ্ধারকারীরা এখন পর্যন্ত ১৩ হাজার ৫৮৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে পেরেছেন, যার মধ্যে ৩০০ জনের বেশি বিদেশি নাগরিক। তবে চিলিমে ও আপার ত্রিশূলির মতো ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলগুলোতে এখনও আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারে জটিল চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঠে নেমেছে নেপাল সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর প্রায় ৮ হাজার সদস্য। তাদের সাহায্য করতে প্রযুক্তি ও বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে ভারত, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। নিখোঁজদের অনুসন্ধানে ব্যবহার করা হচ্ছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ড্রোন, আন্ডারওয়াটার ড্রোন ও ভারী উদ্ধার সরঞ্জাম।

নেপালি প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দ্রুত বেইলি সেতু, উদ্ধার সরঞ্জাম এবং ডিএনএ পরীক্ষার কিট চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন। ভারত, জাপান ও সিঙ্গাপুরের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দলও বর্তমানে স্থানীয়দের সহায়তা করছে।

এদিকে, নতুন করে ভূমিধসের কারণে কিমরুং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ আটকে যাওয়ায় নয়াপুল ও বিরেথান্থি এলাকার বাসিন্দাদের জরুরি ভিত্তিতে নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরে যেতে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/ওএফ





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *