খুলনায় রান্নার পর মাংসের রঙ সবুজ হয় যে কারণে


খুলনার পাইকগাছায় রান্না করার পর মাংসের সবুজ রঙ ধারণের রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। ‘অতিরিক্ত গরম তেলে রান্নার কারণে হিম-রঞ্জক পদার্থের রাসায়নিক রূপান্তরের কারণে মাংসের রঙ পরিবর্তন হয়েছে’- এমন তথ্য উঠে এসেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ল্যাবরেটরি পরীক্ষার প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্রিজে দীর্ঘক্ষণ সংরক্ষণ এবং পরবর্তী সময়ে রান্নার সময় উচ্চ তাপের সংস্পর্শে আসার কারণে মাংসের মায়োগ্লোবিন বা হিম-রঞ্জক পদার্থের রাসায়নিক রূপান্তর বা গাঠনিক পরিবর্তনের কারণে সবুজ রঙ ধারণ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ল্যাবরেটরি থেকে প্রাপ্ত পরীক্ষা ও বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে, নমুনায় কোনো ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া বা পিগমেন্ট উৎপাদনকারীর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। একইসঙ্গে মাংসে কোনো পচনশীল দুর্গন্ধ বা আঠালো ভাবও ছিল না, যা নিশ্চিত করে যে এই রঙ পরিবর্তন কোনো ব্যাকটেরিয়াজনিত বা পচনের কারণে ঘটেনি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান জানিয়েছেন, মূলত মাংস ফ্রিজ থেকে বের করে অতিরিক্ত গরম তেলে রান্নার কারণে হিম-রঞ্জক পদার্থের রাসায়নিক রূপান্তরের কারণে মাংসের রঙ পরিবর্তন হয়েছে।

গত ২২ জুলাই খুলনার পাইকগাছায় রান্নার সময় হঠাৎ গরুর মাংসের রঙ বদলে লাল থেকে নীলচে-সবুজ হয়ে যাওয়ার এক অদ্ভুত ঘটনা ঘিরে জনমনে ব্যাপক কৌতুহল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ওই দিন দুপুরে পাইকগাছা পৌরসভার মডার্ন বেকারির কর্মচারীরা একটি ভোজের আয়োজন করতে গিয়ে এই অস্বাভাবিক ঘটনার মুখোমুখি হন। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ কর্মচারীরা সেই সবুজ মাংসভর্তি কড়াই নিয়ে প্রথমে মাংসের দোকান, এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ও থানায় হাজির হন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, খুলনা জেলা কার্যালয় থেকে সংগৃহীত কাঁচা ও রান্না করা মাংসের নমুনা বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়ে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *