গরু কাটার ‘খাইট্টায়’ ১৫ টুকরো করা হয় কাস্টমস কর্মীর মরদেহ


ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় নিখোঁজের ৯ দিন পর কাস্টমসের নিরাপত্তা শাখার কর্মী রাকিব রায়হানের (৪০) ১৫ টুকরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা চাপাতিসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে হত্যাকাণ্ডের শিকার কাস্টমস কর্মীর বাড়ি থেকে এসব উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া আলামতের মধ্যে রয়েছে একটি চাপাতি, একটি লোহার রড, তিনটি ছুরি, একটি কাঠের খাটিয়া, রক্তমাখা পাঞ্জাবি।

এই ঘটনায় গ্রেপ্তাররা হলেন- বাড়ির কেয়ারটেকার রাজু মির্জা ও তার চাচাতো ভাই জিতুল। এর আগে সিলেটের শ্রীমঙ্গল উপজেলার রেলস্টেশন থেকে গত মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে তাদের দুজনকে গ্রেপ্তার করে ফুলবাড়ীয়া থানা পুলিশ।

ত্রিশাল সার্কেলের এএসপি এস এম হাসান ইস্রাফীল এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, কাস্টমসকর্মী রাকিব রায়হান তালুকদার (৪০) ঢাকার কমলাপুর শাখায় নিরাপত্তা শাখায় চাকরি করতেন। প্রতি বৃহস্পতিবার বাড়ি এসে শনিবার ভোরে ঢাকায় চলে যেতেন। সর্বশেষ তিনি ২৩ জুলাই বাড়িতে আসেন ২৪ জুলাই বিকেল থেকে নিখোঁজ হন। ২৭ জুলাই রাতে কাস্টমস কর্মীর বড় ভাই নূরুল ইসলাম ফুলবাড়ীয়া থানায় জিডি করার পর বাড়ির কেয়ারটেকার রাজু মির্জার ও তার চাচাতো ভাই জিতুল উধাও হয়ে যায়।

এএসপি এস এম হাসান ইস্রাফীল জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে টাকার লোভে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার প্রায় এক মাস পর সিলেটের শ্রীমঙ্গল উপজেলার রেলস্টেশনে থেকে মঙ্গলবার ভোর রাতে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। 

এই পুুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, উদ্ধার হওয়া গাছের গুঁড়িতে (মাংস কাটার খাটিয়া) রাকিব রায়হানের মরদেহ টুকরো টুকরো করা হয়। পরে ব্যাগ ও বিছানার চাঁদর মুড়িয়ে সেগুলো ফেলে দেওয়া হয় তার বাড়ির পাশের পরিত্যক্ত পুকুরে। রাকিবের বাড়িতেই হত্যায় ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত মাটিচাপা দেওয়া হয়। 

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ২ আগস্ট ফুলবাড়িয়া উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে রাকিব রায়হানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত রাকিব রায়হান ওই গ্রামের মৃত ছিদ্দিক তালুকদারের ছেলে। তার মা রাহেলা খাতুন। রাকিব ঢাকার কমলাপুরে কাস্টমসের নিরাপত্তা শাখায় সিপাহি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রাকিব বিবাহিত হলেও কয়েক বছর আগে স্ত্রীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়। তিনি প্রতি সপ্তাহে বৃহস্পতিবার বাড়িতে আসতেন এবং শনিবার কর্মস্থলে ফিরতেন। গত ২৩ জুলাই তিনি বাড়িতে আসেন। সেদিন রাতে বড় ভাই নূরুল ইসলামের সঙ্গে তার শেষবার কথা হয়। পরদিন ২৪ জুলাই বিকেল থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।



রোহান/সা.এ.





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *