চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উচ্চতর পর্যায়ে, ভারতের সঙ্গে বাস্তবতা মেনে
জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেছেন, “প্রতিটি দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রেখেই বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বাগ্রে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।”
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় সিলেট জেলা পরিষদে জেলা ও মহানগর বিএনপির আয়োজনে মতবিনিময় সভায় যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
হুমায়ুন কবির বলেন, “দেশের মানুষের স্বার্থকে সামনে রেখেই বৈদেশিক নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পারস্পরিক মর্যাদা, সমতা ও ভারসাম্যের ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।”
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বর্তমান গতিধারা তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। বিশেষ করে, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বর্তমানে একটি উচ্চতর পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি চীন সফর করেছেন। সেখানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরো গভীর হয়েছে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন সার্বিক কৌশলগত অংশীদারত্বে রূপ নিয়েছে।”
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, “সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ়। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও বাংলাদেশের যোগাযোগ জোরদার হচ্ছে।”
তিনি জানান, সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পাঠানো এক চিঠিতে শিগগিরই তার সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ওই চিঠিতে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমান সরকারের অবস্থান তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছি। কারণ, আমরা দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে নির্বাচিত একটি বৈধ সরকার। আমাদের ভিত্তি অত্যন্ত মজবুত।”
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, “ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার আগ্রহ রয়েছে। তবে, দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাস্তবতাকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই।”
ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। গত ১৫ বছরেও দেশে অসংখ্য মানুষ গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন এবং বিপুল অর্থ লুটপাট হয়েছে।”
হুমায়ুন কবির বলেন, “ভারতের সার্বভৌম ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশে কোনো ধরনের সহিংসতা বা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পরিকল্পনা করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।”
তিনি বলেন, “আমরা যেভাবে বাংলাদেশের মাটিতে ভারতের কোনো সন্ত্রাসীকে স্থান দেব না, তেমনই ভারতের কাছ থেকেও আমরা প্রত্যাশা করি যে, তারা আমাদের দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া কোনো সন্ত্রাসীকে তাদের দেশে প্রশ্রয় দেবে না।”
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “জাতীয় স্বার্থ, পারস্পরিক মর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করাই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য।”
এর আগে শুক্রবার দুপুরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো সিলেটে আসেন হুমায়ুন কবির। সিলেটে এসে তিনি হজরত শাহজালালের (র.) মাজারে জুমার নামাজ আদায় করেন। পরে বিকেলে সিলেট জেলা পরিষদে জেলা ও মহানগর বিএনপির আয়োজনে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।
সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ্ সিদ্দিকী, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের শামীমসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
