টেন্ডার ও অনুমতি ছাড়াই কুমিল্লা-বুড়িচং-সালদা সড়কের গাছ কাটার অভিযোগ


কুমিল্লা-বুড়িচং-সালদা-সৈয়দাবাদ সরকারি সড়কের পাশের গাছ টেন্ডার ও প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, চার লেন মহাসড়ক প্রকল্পের জন্য গাছের তালিকাকরণ চলাকালেই একটি সিন্ডিকেট চক্র সড়কের দুই পাশের গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে।

ইতোমধ্যে ২০ থেকে ৩০ বছর আগে লাগানো বনজ ও ফলজ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবেশকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুমিল্লা-বুড়িচং-সালদা সড়কের পাশে বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের চড়ানল-ধারেশ্বর এলাকায় বনজ ও ফলজ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা।

জানা যায়, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে কুমিল্লা-বুড়িচং-সালদা-সৈয়দাবাদ (কসবা) সড়কটিকে চার লেনবিশিষ্ট জাতীয় মহাসড়কে উন্নীত করার পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের মেয়াদকাল জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০২৮ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই আঞ্চলিক সড়কটি কুমিল্লা নগরী, বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া হয়ে সালদা ও কসবা পর্যন্ত চার লেনে বিস্তৃত হবে। সরকারের ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) প্রকল্পটি তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণ, প্রাথমিক জরিপ ও গাছ তালিকাকরণসহ অন্যান্য কাজ চলমান রয়েছে।এই সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৫৮ লাখ টাকা, অর্থাৎ প্রায় ১ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা।

জানা গেছে, সম্প্রতি টেন্ডারের উদ্দেশ্যে এই সড়কের দুই পাশের প্রতিটি গাছের ইউনিক নম্বর প্রদান ও তালিকাকরণের কাজ করছে কুমিল্লা জেলা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারের পক্ষ থেকে টেন্ডার হওয়ার আগেই কুমিল্লা-বুড়িচং-সালদা-সৈয়দাবাদ (কসবা) সড়কের দুই পাশের ছোট-বড় গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে একটি সিন্ডিকেট চক্র।

সোমবার সন্ধ্যায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চড়ানল হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা সংলগ্ন এবং ধারেশ্বর হরিমঙ্গল প্রবেশপথ এলাকায় সড়কের দুই পাশের ছোট-বড় প্রায় ২০ থেকে ৩০টি গাছ কেটে ফেলে রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, কেটে ফেলা গাছগুলোর বাজারমূল্য আনুমানিক লক্ষাধিক টাকা।

ঘটনাস্থলে থাকা সিন্ডিকেট চক্রের সদস্যরা সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। পরে সাংবাদিকরা বিষয়টি কুমিল্লা জেলা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ), জেলা পরিষদ ও বুড়িচং উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মতিন বলেন, “কয়েকদিন যাবত দেখছি রাস্তার পাশের ছোট-বড় অনেকটি গাছ নিজেদের দাবি করে কেটে নিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় কিছুসংখ্যক ব্যক্তিরা। প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া এভাবে গাছগুলো কেটে নেওয়া তাদের ঠিক হয়নি। এই সড়কে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের নজর রাখা প্রয়োজন।”

এ বিষয়ে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক তানভীর হোসেন বলেন, “গাছ কাটার খবর পেয়ে জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা ঘটনাস্থলে জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার জহিরুল কাইয়ুমকে পাঠিয়েছেন এবং গাছগুলো উদ্ধার করে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন।”

কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম জাকারিয়া বলেন, “সড়কের গাছ কাটার অভিযোগ পেয়ে সার্ভেয়ার জহিরুল কাইয়ুমকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি এবং গাছগুলো উদ্ধার করে আনা হচ্ছে। বেআইনিভাবে সড়কের গাছ কাটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, “সড়কের গাছ কাটার খবরটি আপনার মাধ্যমে শুনেছি। ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”



রোহান/সা.এ.





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *