ট্রাফিক ভাঙলেই এআই ক্যামেরা রেকর্ড করছে, সতর্ক হবেন যেভাবে
নতুন ব্যবস্থায় মহাসড়কের বিভিন্ন জায়গায় বসানো এআই ক্যামেরা সারাক্ষণ যানবাহনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করবে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আছে এআই ক্যামেরা। ক্যামেরাগুলো নির্দিষ্ট ধরনের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত ও রেকর্ড করতে পারবে।
শুধু অতিরিক্ত গতিই নয়, বিপজ্জনক বা নিষিদ্ধভাবে ওভারটেকিং, ট্রাফিক সিগন্যাল ও সাইন না মানা, রাস্তার উল্টো দিকে গাড়ি চালানো এবং অবৈধ পার্কিংয়ের মতো ঘটনাও এই ব্যবস্থার আওতায় আসবে।
জরিমানার তথ্য কীভাবে যাবে?
কোনো গাড়ি আইন ভাঙলে ক্যামেরায় সেটির তথ্য রেকর্ড হওয়ার পর তা সংশ্লিষ্ট ডাটাবেসে পাঠানো হবে। এরপর গাড়ির নিবন্ধিত মালিকের মোবাইল নম্বরে অপরাধ ও জরিমানার তথ্যসহ এসএমএস পাঠানোর ব্যবস্থা রয়েছে। জরিমানাও ঘরে বসে নির্ধারিত মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে পরিশোধ করা যাবে। অর্থাৎ, রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ চোখে পড়ছে না বলে নিয়ম ভাঙার সুযোগ থাকবে না। ক্যামেরার নজর এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টাও কাজে আসবে না।
তাহলে চালকদের কীভাবে সতর্ক থাকতে হবে?
প্রথমেই নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলতে হবে। ফাঁকা মহাসড়ক দেখেও অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো ঠিক হবে না। দ্বিতীয়ত, ওভারটেক করার সময় রাস্তার নিয়ম এবং নিরাপদ দূরত্ব মেনে চলতে হবে।
রাস্তার ভুল পাশে গাড়ি চালানো কিংবা দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য বিপজ্জনকভাবে লেন পরিবর্তন করাও এড়িয়ে চলতে হবে। ট্রাফিক সিগন্যাল, রাস্তার নির্দেশনা ও নিষেধাজ্ঞার সাইনবোর্ডও ভালোভাবে মেনে চলা জরুরি।
অবৈধ জায়গায় গাড়ি পার্ক না করাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মহাসড়কে হঠাৎ রাস্তার পাশে গাড়ি থামিয়ে রাখা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায় এবং নতুন নজরদারি ব্যবস্থায় এমন ঘটনাও ধরা পড়তে পারে।
শুধু জরিমানা নয়, আরও বড় সতর্কতা
নতুন প্রযুক্তির উদ্দেশ্য শুধু জরিমানা আদায় নয়, মহাসড়কে দুর্ঘটনা কমানো এবং ট্রাফিক শৃঙ্খলা বাড়ানো। তবে একটি বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে। এআই ট্রাফিক ব্যবস্থা চালুর সুযোগ নিয়ে ভুয়া জরিমানার এসএমএস বা লিঙ্ক পাঠিয়ে প্রতারণার ঘটনাও ঘটতে পারে। তাই অপরিচিত কোনো লিঙ্কে ক্লিক করে ব্যাংক তথ্য, এমএফএস পিন বা ওটিপি দেওয়া যাবে না। ভুয়া ট্রাফিক ফাইন নিয়ে প্রতারণার বিষয়ে আগেও সতর্ক করা হয়েছে। সুতরাং, এআই ক্যামেরার ভয় নয় ট্রাফিক আইন মেনে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ। এতে জরিমানা এড়ানোর পাশাপাশি নিজের এবং অন্যদের জীবনও নিরাপদ রাখা সম্ভব।
কেএসকে
