ঢাকা-ময়মনসিংহ-মুক্তাগাছা: এক কাব্যিক অভিযাত্রা | বন্ধুসভা


কবিতা কেবল শব্দের শিল্প নয়; কবিতা মানুষের অনুভব, সময়ের সাক্ষ্য, অন্তরের জাগরণ। প্রেমের স্পর্শ থেকে প্রতিবাদ। কবিতা বারবার মানুষের অন্তর্গত সত্যকে উচ্চারণ করে। সেই উচ্চারণ যখন মুক্তির আকাঙ্ক্ষা হয়, তখন কবিতা হয়ে ওঠে সময়ের দর্শন।

‘কবিতায় প্রেম, প্রতিবাদ ও মুক্তির উচ্চারণ’ শিরোনামটির মধ্যেই রয়েছে কবিতার বহুমাত্রিক সত্তা। প্রেম শুধু ব্যক্তিমানুষের ভালোবাসা নয়, প্রেম হয়ে উঠতে পারে মানুষ, প্রকৃতি, দেশ ও মানবতার প্রতি মমতা। সেই প্রেমই যখন অন্যায়, বৈষম্য কিংবা নিপীড়নের মুখোমুখি হয়, তখন তার ভেতর থেকে জন্ম নেয় প্রতিবাদ।

যে কবি প্রেমের অমর পঙ্‌ক্তি লেখেন, প্রয়োজনে সেই কবিই হয়ে ওঠেন শোষিতের কণ্ঠস্বর। যেখানে অনেক কথা বলা যায় না, সেখানে কবিতা কথা বলে। প্রতিবাদের কবিতা শুধু ক্ষোভ নয়, এটি স্বপ্ন দেখায়। সেই স্বপ্ন হলো অন্ধকারের বিপরীতে আলোর, শৃঙ্খলের বিপরীতে মুক্তির এবং ভয়ের বিপরীতে সাহসের স্বপ্ন। তাই কবিতার প্রতিবাদ শেষ পর্যন্ত মুক্তির দিকেই।

বাংলা কবিতার দীর্ঘ পথচলায় প্রেম-প্রতিবাদ পাশাপাশি। প্রেমিকের হৃদয়ের ব্যথা যেমন কবিতায় এসেছে, তেমনি মানুষের অধিকার, স্বাধীনতা ও মর্যাদার প্রশ্নও বারবার কবিতায় এসেছে। কখনো কবিতা হয়ে উঠেছে স্বীকারোক্তি, কখনো সত্যের ভাষা। কবিতা মানুষের সেই আলো, যা সহজে নেভে না। প্রেম একে স্নিগ্ধ করে, প্রতিবাদ কঠিন করে, আর মুক্তির আকাঙ্ক্ষা করে তোলে অদম্য। কবিতা ভালোবাসার কথা বলে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, মুক্তির স্বপ্ন দেখায়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *