তিন বছরেই উধাও স্কুলের লাখ টাকার বিজ্ঞান ভবন


মাত্র তিন বছর আগে নির্মিত গুরুদাসপুরের ধানুড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ভবন ও কয়েকটি টিনশেড ঘর উধাও হয়ে গেছে। টেন্ডার ছাড়াই জাইকা’র অর্থায়নে নির্মিত ওই শিক্ষা ভবন অপসারণসহ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার কিছুই জানেন না উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি) ও উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এদিকে পুরোনো ভবন অপসারণের পর বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান নিয়েও সমস্যা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ভবনটি না থাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিচে উন্মুক্ত স্থানে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে হচ্ছে।

রবিবার (৩০ আগস্ট) সকালে স্কুলে গিয়ে দেখা গেছে, বিদ্যালয় চত্বরে বিজ্ঞান ভবন ও টিনশেড ঘরগুলোর কোনো অস্তিত্ব নেই। ভবনগুলোর জায়গা মাটির নিচ পর্যন্ত খালি করে রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাত্র তিন বছর আগে নির্মিত বিজ্ঞান ভবনটি ভেঙে বিক্রি করায় সরকারি অর্থের বড় ধরনের অপচয় হয়েছে। ভবনটি নির্মাণে জাইকার অর্থায়নে প্রায় ২২ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছিল। সেই ভবন ও টিনশেড ঘর ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে বলে দাবি করেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন বলেন, “২০২০-২১ অর্থবছরে জাইকার অর্থায়নে ২২ লাখ টাকা বরাদ্দে বিজ্ঞান ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ২০২৩ সালে শেষ হয়। পরে স্থানীয় কমিটি ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভবন ও টিনশেড ঘর ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। জায়গা খালি না করলে নতুন একাডেমিক ভবনের অনুমোদন পাওয়া যেত না। স্কুলের স্বার্থেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

জাইকা’র কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার রায় বলেন, “বিজ্ঞান ভবনটি ২০২৩ সালে মাত্র নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। ভবনটি বিক্রি বা অপসারণের বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদের কিছুই জানায়নি।”

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম আকতার বলেন, “ভবনটি অপসারণের বিষয়ে কিছুই জানি না। মাত্রই ইউএনও মহোদয় ডেকে স্কুলটির বিষয়ে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর জবাব চেয়ে চিঠি করেছি। তদন্তের পর বিস্তারিত জানাতে পারবো।”

উপজেলা শিক্ষা উপসহকারী প্রকৌশলী মাহবুব হোসেন বলেন, “সেখানে কোনো ভবন বা স্থাপনা ছিল কি না, তা জানা নেই। তবে চারতলা ফাউন্ডেশনের একতলা নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের ব্যয় বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।”

গত ২৬ আগস্ট স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ নতুন একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তিনি বলেন- “পূর্বের ভবনের ব্যাপারে অবগত ছিলাম না। দুই-এক দিনের মধ্যে এলাকায় এসে বিষয়টি দেখব।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ বলেন, “ভবনটি অপসারণের বিষয়ে আমি অবগত নই। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই ঐ বিদ্যালয়ের ব্যাপারে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”

স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি অর্থে নির্মিত একটি ভবন মাত্র তিন বছরের মধ্যেই কার অনুমোদনে ভেঙে ফেলা হলো, কী প্রক্রিয়ায় তা বিক্রি করা হলো এবং বিক্রির অর্থই বা কোথায় জমা হয়েছে। এসব বিষয় তদন্তে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য পুরোনো স্থাপনা অপসারণের ক্ষেত্রে সরকারি বিধিবিধান অনুসরণ করা হয়েছে কিনা, তা নিয়েও তদন্তের দাবি উঠেছে।



বাপ্পি/সা.এ





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *