তেলের বাজারে অস্থিরতা, ফের বাড়ল দাম


যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার জেরে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এর প্রভাবে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এশিয়ার প্রারম্ভিক লেনদেনে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বেড়েছে। খবর রয়টার্সের।

রয়টার্স জানিয়েছে, বুধবার গ্রিনিচ মান সময় (GMT) ০৬:০৫ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ০৩ ডলার বা ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৯৫ দশমিক ৬৮ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৬১ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৯০ দশমিক ৮৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এর আগের দিন মঙ্গলবার উভয় ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ ডলারের বেশি বেড়েছিল। ব্রেন্টের এই দরবৃদ্ধি গত ২৪ জুলাইয়ের পর সবচেয়ে বড় এবং ডব্লিউটিআইয়ের দামবৃদ্ধি গত ২৩ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ ছিল।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র মঙ্গলবার রাতে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালানোর কথা জানায়। এর জবাবে ইরান পাল্টা হামলা চালায়। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে এটিকে সবচেয়ে বড় ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচলের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে সংঘাত শুরুর আগে বৈশ্বিক ব্যবহৃত মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো। বর্তমানে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ রয়েছে বলে ইরান জানিয়েছে।

ING-এর বিশ্লেষকেরা এক নোটে বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাবলিতে আঞ্চলিক তেল সরবরাহ নিয়ে ঝুঁকি আবারও সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অচলাবস্থার মধ্যেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে কিছু তেল পরিবহন চলছিল। তবে উত্তেজনা বাড়ায় এ পথে জাহাজ চলাচল এখন বড় ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

এদিকে আইআরজিসি জর্ডানে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বাহরাইনে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে বড় ধরনের ড্রোন হামলারও দাবি করেছে।

তবে জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১০টি প্রতিহত করেছে। দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এসব হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে কুয়েত জানিয়েছে, দেশটির সশস্ত্র বাহিনীও শত্রুতামূলক ড্রোন তৎপরতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।

রয়টার্স বলছে, সপ্তাহান্তে সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার পর সোমবার হরমুজ প্রণালি থেকে ছেড়ে যাওয়া দুটি তেলবাহী ট্যাংকার হামলার শিকার হয়। এতে তেল সরবরাহ আরও ব্যাহত হয়েছে এবং ব্যবসায়ীরা বিকল্প উৎস থেকে অপরিশোধিত তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।

ফিলিপ নোভা’র বাজার বিশ্লেষক প্রিয়াঙ্কা সচদেবা বলেন, তেলের বাজার এখন শুধু যুদ্ধের ঝুঁকি বিবেচনা করছে না; বরং অমীমাংসিত যুদ্ধের অর্থনৈতিক ব্যয়ও হিসাবের মধ্যে আনছে। আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের স্পষ্ট প্রমাণ এবং হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক তেল সরবরাহ ফিরে না আসা পর্যন্ত অপরিশোধিত তেলের দামে ঝুঁকিজনিত অতিরিক্ত মূল্য বা ‘রিস্ক প্রিমিয়াম’ উচ্চই থাকবে।

অন্যদিকে বিশ্বের বৃহত্তম তেল উৎপাদক যুক্তরাষ্ট্রে গত ২৮ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের মজুত ২৬ লাখ ব্যারেল কমেছে। একই সময়ে ডিজেল ও হিটিং অয়েলসহ ডিস্টিলেটের মজুত কমেছে ২ লাখ ৬৫ হাজার ব্যারেল। বাজারসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের (এপিআই) তথ্যের বরাতে এ কথা জানিয়েছে।



রোহান/সা.এ.





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *