দারুস সালামে গৃহবধূকে গুলি করেন তারই স্বামী: র‌্যাব


রাজধানীর দারুস সালামে নিজ বাসায় এক গৃহবধূর গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে র‌্যাব বলছে, ঝগড়ার একপর্যায়ে তার স্বামীই তাকে গুলি করেন। মাতবরবাড়ি মসজিদ গলি এলাকায় শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজ বাসায় ৩৮ বছর বয়সি জেসমিন বেগম ডানহাতে গুলিবিদ্ধ হন। তখন খবর এসেছিল, বাসায় টেলিভিশন দেখার সময় জানালা দিয়ে ছোড়া গুলিতে তিনি বিদ্ধ হয়েছেন।

বর্তমানে জেসমিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তিনি শক্তামুক্ত বলেও জানিয়েছে র‍্যাব।

এ ঘটনার তদন্তে নেমে ওই নারীর স্বামী আব্দুল মান্নান ওরফে আব্দুল হান্নান (৪৫), ছেলে রাকিব (২৫) এবং ছেলের বন্ধু হাতিম মিয়াকে (২১) গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে র‌্যাব।

এ বিষয়ে জানাতে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকার কারওয়ানবাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসে র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান বলেন, তদন্তে আমরা জানতে পারি যে, মহিলাকে তার স্বামী নিজেই গুলি করেছেন। স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করার সময় উত্তেজিত হয়ে এক পর্যায়ে সে গুলি করে।

গুলি করার কয়েক ঘণ্টা পরই রাত সাড়ে ৩ টার দিকে আব্দুল মান্নানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাবের ভাষ্য, পরে অস্ত্রটি ছেলে রাকিবের কাছে দেন মান্নান। রাকিব সেটি বন্ধু হাতিমের বাসায় লুকিয়ে রাখে।

এরপর র‌্যাব-৪ ও দারুস সালাম থানার যৌথ অভিযানে নেমে মান্নান ও জেসমিনের ছেলে রাকিবকে গ্রেপ্তার করা করে। আর ছেলের দেওয়া তথ্যে তার বন্ধু হাতিমের বাসায় অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়। এ সময় ১টি ম্যাগাজিন, ২ রাউন্ড গুলি এবং মান্নানের কাছ থেকে ২১৫টি ইয়াবা উদ্ধার করার কথা জানিয়েছে র‌্যাব।

গুলি করার কারণ নিয়ে র‌্যাব-৪ অধিনায়ক হাফিজুরের ভাষ্য, ওই ব্যক্তি বেশিরভাগ সময়ই মাদকাসক্ত থাকতেন। গতকাল রাতেও মাতাল অবস্থায় বাসায় ফেরেন তিনি এবং তার স্ত্রীর সাথে এটা নিয়ে বেশ ঝগড়া বিবাদ হয়। যেহেতু সে ওই সময় মাতাল অবস্থায় ছিল, মাতাল অবস্থায় তার স্ত্রীকে গুলি করে এবং গুলিটা তার স্ত্রীর ডান হাতের বাহুতে লাগে।

গ্রেপ্তার মান্নানকে এলাকার ‘কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী’ দাবি করে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, অস্ত্র দিয়ে সে যে সন্ত্রাসী কার্যক্রম করে আসছিল আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় তিনটি মামলা রয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তার ছেলে মাদকাসক্ত এ রকম তথ্য আমরা পাইনি। তাকে দেখে মনে হয়নি সে মাদকাসক্ত। মান্নান যেহেতু একটি গুলি বা এই ধরনের ঘটনা করে ফেলেছে সেজন্য বাঁচার জন্য তার ছেলেকে অস্ত্রটা দিয়েছিল কোথাও লুকিয়ে রাখতে।

গুলিবিদ্ধি নারীরও মাদক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, উনি মাদকের সাথে জড়িত না। মান্নান মাদকের ব্যবসা করে এবং মাদকাসক্ত, এই বিষয় নিয়ে তাদের সংসারে সবসময়ই ঝগড়াঝাটি লেগে থাকত। এরকম আমরা আশেপাশের মানুষের কাছ থেকে জানতে পেরেছি।

ঘটনার পর পরিবারের তরফে দাবি করা হয়েছিল, জেসমিন বাসার জানালা খোলা রেখে টিভি দেখছিলেন। এসময় কে বা কারা জানালা দিয়ে গুলি করে পালিয়ে যায়।

এ প্রসঙ্গে করা এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব কর্মকর্তা হাফিজুর বলেন, মান্নান এরকম বিষয়ে স্বীকার করেনি, আর তাদের ছেলেও হয়ত এর সাথে জড়িত থাকতে পারে। সে নিজেও একটা গল্প তৈরি করেছে যে, জানালা দিয়ে বাইরে থেকে দুর্ভিত্তরা গুলি করেছে। মূলত ঘটনাটা ঘরের ভিতরেই ঘটেছে। পিস্তলটি গ্রেপ্তার আব্দুল মান্নানের নিজেরই বলেও ভাষ্য এই র‍্যাব কর্মকর্তার।

আমিনবাজারে পুলিশের এসবির এসআই আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঘটনায় মূলত চারজন ব্যক্তি তার উপর হামলা করে। আমরা যতটুক জানতে পেরেছি, তারা একটা গাড়িতে ছিল এবং তারা সম্ভবত মাদকাসক্ত ছিল। একটা অটোরিকশা ড্রাইভারের সাথে তারা ঝগড়াবিবাদে লিপ্ত ছিল এবং এসআই আলতাম এখানে গিয়েছিলেন এটা মধ্যস্থতার করে একটা সমাধানের জন্য। যেহেতু তারা মাতাল অবস্থায় ছিল, তারা তার উপরে হামলা করে এবং হামলার এক পর্যায়ে আশেপাশের লাঠি দিয়ে আঘাত করার কারণে তার মৃত্যু হয়।

এই ঘটনার প্রধান আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে, বাকিদেরকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার রাত ৮টার দিকে আমিন বাজারের বরদেশি মদিনা হাউজিং এলাকায় গেঞ্জি তৈরির কারখানার সামনে একটি প্রাইভেট কার রাখা নিয়ে দুই পক্ষের ঝামেলা মেটাতে গিয়ে হামলার শিকার হন এসবির এসআই আলতাফ হোসেন ও তার ছেলে।

এ ঘটনায় রোববার ভোরে প্রাইভেটকারের চালক ও মালিক জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের কথা বলেছে পুলিশ।

বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *