নির্বাচন অফিসে সেবা চেয়ে কর্মকর্তার চড় খেলেন প্রবাসী


জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সেবা নিতে আসা এক প্রবাসীকে চড় মারার অভিযোগ উঠেছে সিলেটের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দীনের বিরুদ্ধে। পর্তুগাল থেকে দেশে ফিরে এনআইডি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের জন্য সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ে গিয়ে ওই প্রবাসী এমন ঘটনার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

ভুক্তভোগী জকিগঞ্জের বাসিন্দা। তিনি জানান, মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখানোর পরও এনআইডি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করা হয়নি। বরং কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে সবার সামনে অপমান ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।

তবে চড় মারার অভিযোগ সরাসরি স্বীকার করেননি আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দীন। তিনি ঘটনাটিকে ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘‘এনআইডির আবেদন নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। পরে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।’’ 

অভিযোগকারী প্রবাসী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তিনি ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে পর্তুগালে যান। দীর্ঘদিন পর গত ১৪ আগস্ট দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পর এনআইডি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ে যান। 

ওই প্রবাসী জানান, দেশে ফেরার প্রমাণ হিসেবে বিমানের টিকিটসহ প্রয়োজনীয় নথি তিনি কর্মকর্তাকে দেখাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এনআইডির আবেদনটি তিনি নিজে করেছেন কি না, তা নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।

প্রবাসী বলেন, ‘‘আমি বলেছি স্যার, আমি প্রবাসী। আমি ১৪ আগস্ট দেশে এসেছি। আমার টিকিট আছে, সব কাগজপত্র আছে। কিন্তু স্যার চেয়ার থেকে উঠে আমাকে বাইরে এনে দুই-তিনটা চড় মারেন। আমার দুই গালে চড় মেরেছেন।’’

প্রবাসী আরও বলেন, ‘‘আমি খুবই লজ্জিত। একজন কর্মকর্তা হয়ে এত মানুষের সামনে একজন প্রবাসীকে, একজন রেমিট্যান্সযোদ্ধাকে এভাবে অপমান করা হলো। আমি কী অপরাধ করেছি, সেটাই তো বুঝতে পারিনি।’’ 

ঘটনার পর ভয় দেখানোরও অভিযোগ করে ওই প্রবাসী বলেন, নিজেকে প্রবাসী হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পরও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। বরং তাকে জেলা প্রশাসকের কাছে ফোন করে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

প্রবাসীকে চড় মারার অভিযোগের বিষয়ে সিলেটের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দীন বলেন, এনআইডির আবেদন সম্পন্ন করতে ফেস ডিটেকশনসহ নির্দিষ্ট কিছু প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। কিন্তু ওই প্রবাসী দাবি করছিলেন, আবেদনটি তিনি নিজে করেননি, অন্য কেউ তার হয়ে আবেদন করেছেন।

মো. আলাউদ্দীন বলেন, ‘‘উনি বারবার অস্বীকার করছিলেন যে আবেদনটা তিনি করেননি। আমরা বলছিলাম, আপনি করেছেন। এটা নিয়ে আমাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল।’’ 

চড় মারার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সরাসরি বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিয়ে বলেন, ঘটনাটি লাঞ্ছিত করার মতো নয়। দুপক্ষের মধ্যে কিছুটা বাক্যবিনিময় হয়েছিল বলে জানান তিনি।

আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা আরও বলেন, পরদিন বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। ওই প্রবাসীকে নতুন করে কীভাবে আবেদন করতে হবে, সে বিষয়েও বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *