নেপালের বন্যার কারণ স্পষ্ট করল ইউএসজিএস
নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের কারণ নিয়ে নতুন ব্যাখ্যা দিয়েছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস। সংস্থাটি জানিয়েছে, এটি কোনো ভূমিকম্প ছিল না; বরং হিমবাহধস ও ধ্বংসাবশেষের স্রোত থেকেই এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত হয়।
নেপালের আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পেছনের কারণ স্পষ্ট করেছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস। সংস্থাটি জানিয়েছে, ভূমিকম্প নয়, বরং হিমবাহধস থেকেই এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত ঘটে।
বৃহস্পতিবার ইউএসজিএসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক হালনাগাদ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছিল, ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্পের কারণেই নেপালে আকস্মিক বন্যা শুরু হয়। তবে দীর্ঘস্থায়ী ভূকম্পন তরঙ্গ, আশপাশের ভূকম্পন পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের তথ্য এবং স্যাটেলাইট চিত্রের বিস্তারিত বিশ্লেষণে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে।
ইউএসজিএস জানিয়েছে, ‘প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প হিসেবে জানানো হয়েছিল। তবে আশপাশের ভূকম্পন পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের তথ্য, দীর্ঘ সময়ের ভূকম্পন তরঙ্গ ও স্যাটেলাইট চিত্রের আরও বিশদ বিশ্লেষণের পর নিশ্চিত হওয়া গেছে, এটি আসলে হিমবাহধস ও ধ্বংসাবশেষের স্রোতের ঘটনা ছিল। কোনো ভূমিকম্প হয়নি।’
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভূকম্পনের মাত্রা আগের ৪ দশমিক ৪ থেকে সংশোধন করে ৫ দশমিক ২ নির্ধারণ করা হয়েছে।
কীভাবে ঘটল বিপর্যয়
ইউএসজিএসের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, হিমবাহধসের পর বিপুল পরিমাণ বরফ, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নিচে নেমে আসে। এই ধ্বংসাবশেষের স্রোতই ভূকম্পনের মতো সংকেত তৈরি করে এবং পরে ভাটির দিকে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করে।
বুধবার তিব্বত থেকে সৃষ্টি হওয়া এই আকস্মিক বন্যায় নেপালের রসুয়া ও ধাদিং জেলায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে।
এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই দুর্যোগে অন্তত ১৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং এখনো প্রায় এক হাজার ৩০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে মিলল নতুন প্রমাণ
ইউএসজিএসের এই হালনাগাদ মূল্যায়ন আগের ধারণার সঙ্গে বড় ধরনের পার্থক্য তৈরি করেছে। সংস্থাটি বলছে, স্যাটেলাইট চিত্র ও দীর্ঘস্থায়ী ভূকম্পন তরঙ্গ বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে, এটি ভূমিকম্পজনিত ঘটনা নয়; বরং হিমবাহধস ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোতের ফল।
বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম
