প্রবাসীদের নথি সত্যায়নে অভিন্ন নির্দেশনা জারির বিষয়ে হাইকোর্টের রুল


প্রবাসীদের ক্ষেত্রে নথি (বিবাহ নিবন্ধন, সন্তানের জন্মনিবন্ধন, সম্পত্তি হস্তান্তর, উত্তরাধিকার ও শিক্ষাগত সনদ ইত্যাদি) সত্যায়নে অভিন্ন নির্বাহী নির্দেশনা জারি ও বাস্তবায়নে নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

এ সংক্রান্ত এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে সোমবার (১৭ আগস্ট) হাইকোর্টের বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের বেঞ্চ এ রুল দেন। আদালতে এদিন রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খাঁন জিয়াউর রহমান।

রুলে হেগ অ্যাপোস্টিল কনভেনশন অনুযায়ী উৎসরাষ্ট্রে যথাযথভাবে অ্যাপোস্টিল করা পাবলিক ডকুমেন্ট (সরকারি দলিল বা নথি) অতিরিক্ত সত্যায়ন ছাড়া নিতে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের সব মিশনে অভিন্ন নির্বাহী নির্দেশনা জারি ও বাস্তবায়নে নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা কেন বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। ওই কনভেনশনের বাস্তবায়ন নিশ্চিতে বাংলাদেশের সব দূতাবাস, হাইকমিশন ও কনস্যুলেটের প্রতি অবিলম্বে অভিন্ন সার্কুলার, নির্বাহী নির্দেশনা ও প্রশাসনিক গাইডলাইন জারি করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।

এ ছাড়া আইন মন্ত্রণালয়ের ২০২৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বরের সার্কুলার এবং ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বরের এসআরও বিদেশে অবস্থিত সব বাংলাদেশ দূতাবাস ও কনস্যুলেটে বাস্তবায়নের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, রুলে তা-ও জানতে চেয়েছেন আদালত।

এর আগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নূর ই আলম এ রিট করেন।

রিটে বলা হয়, অভিন্ন ও সুস্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশ মিশনে নথি গ্রহণের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। কোনো মিশন অ্যাপোস্টিল করা নথি গ্রহণ করলেও অন্য কোনো মিশন একই ধরনের নথির জন্য অতিরিক্ত বৈধকরণ বা পাল্টা প্রত্যয়ন চায়।

পরে আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিক, শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থী ও ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন প্রয়োজনে জন্মসনদ, বিবাহসনদ, শিক্ষাগত সনদ, আদালতের নথি, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি এবং অন্যান্য সরকারি দলিল বাংলাদেশে ব্যবহার করতে হয়। নথিগুলো উৎসরাষ্ট্রে আইন অনুযায়ী নোটারাইজড ও অ্যাপোস্টিল করার পরও অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মিশন থেকে আবার সত্যায়ন বা পাল্টা সত্যায়ন নিতে বলা হয়।

ফলে একই নথি নিয়ে একজন ব্যক্তিকে একাধিক সরকারি দপ্তর, নোটারি, অ্যাপোস্টিল কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ মিশনে ঘুরতে হয়। কোনো কোনো দেশে বাংলাদেশ দূতাবাস সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বাসস্থান থেকে কয়েক শ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সেখানে যেতে ভোগান্তি পোহাতে হয়। পাশাপাশি যোগ হয় অ্যাপয়েন্টমেন্টের অপেক্ষা, কর্মস্থল থেকে ছুটি, যাতায়াত ও আবাসন ব্যয় এবং কুরিয়ারযোগে মূল নথি পাঠানোর ঝুঁকি।

এফএইচ/এমএমকে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *