বক্তব্য প্রত্যাহারে দুদককে ২৪ ঘণ্টা সময় দিলেন আসিফ


নিজের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগসংক্রান্ত বক্তব্য প্রত্যাহারে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। এর মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার না হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের এ উপদেষ্টা, যিনি বর্তমানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছেন।

বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, তাদের হাতে আসা অভিযোগের ভিত্তিতে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।

বাকি তিনজন হলেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্মসচিব শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন এবং যুব-১ শাখার উপসচিব মো. মাসুম আহমেদ।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে ‘বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে দুর্নীতির’ অভিযোগে এ অনুসন্ধান শুরু করার কথা জানান আকতারুল।

দুদকের এ সিদ্ধান্ত সামনে আসার পর রাতে বাংলা মোটরে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন আসিফ।

তিনি বলেন, দুদকের মুখপাত্র যদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার বক্তব্য প্রত্যাহার না করেন এবং গণমাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে পরিষ্কার না করেন, তাহলে আমি আইনি ব্যবস্থা নেব।

তিনি বলেন, সত্য উদঘাটনের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে আমি প্রস্তুত আছি।

যে নথির ভিত্তিতে দুদক অভিযোগটি অনুসন্ধান শুরু করেছে তাতে বলা হয়েছে, আসিফ মাহমুদ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা থাকার সময় বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে ‘চরম দুর্নীতি করেছেন’।

কয়েকজন কর্মকর্তা ও যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে নিয়ে ‘সিন্ডিকেট’ গড়ে তোলার অভিযোগও করা হয়েছে সেখানে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল ও পদায়নের জন্য ৭৬ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়ার জন্য দেড় কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তাদের পদোন্নতির পর পছন্দের জায়গায় পদায়নের জন্য আরও মোট ২ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

এসব বিষয়ে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ বলেন, “৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল ও পরবর্তীতে ১৫০ জনের পদায়নকে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত করে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেটি আদালতের রায় বাস্তবায়ন এবং পরবর্তী নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছে।”

তিনি বলেন, “আদালতের রায়ের কারণেই তাদের নবম গ্রেডের চলতি দায়িত্ব বাতিল করে দশম গ্রেডের মূল পদে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর ওই ৩৮টি পদ সহ বিদ্যমান শূন্য পদে পদোন্নতির জন্য পিএসসির মতামত চাওয়া হয়। জ্যেষ্ঠতার তালিকা, সার্ভিস রেকর্ড, এসিআর ও সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনার জন্য পিএসসিতে পাঠানো হয়।”

তার মন্তব্য, পিএসসি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এ প্রক্রিয়ায় মন্ত্রণালয়ের নিজস্বভাবে কাউকে পদোন্নতি দেওয়ার সুযোগ নেই।

আসিফ মাহমুদ বলেন, “বিরোধী দলকে দমনের হাতিয়ার হিসেবে দুর্নীতি দমন কমিশনকে আবারও রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার জন্যই বিএনপি সরকার দুদকের সংস্কার প্রক্রিয়া বাতিল করেছে।”

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এর তিন দিন পর ৮ অগাস্ট মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে ওই সরকারে উপদেষ্টা হন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। শুরুতে তাকে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের নভেম্বরে শ্রম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব তার কাছ থেকে সরিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ থেকে সরে দাঁড়ান আসিফ মাহমুদ। ওই মাসের শেষ দিকে তিনি এনসিপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন। এরপর থেকে তিনি দলটির মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছেন।





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *