বন্যার নির্ভুল পূর্বাভাস দিতে ঢাবিতে গবেষণা প্রকল্প উদ্বোধন


বাংলাদেশের হাওরাঞ্চলে বন্যার পূর্বাভাস ও পূর্ব সতর্কীকরণ ব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) এবং জাপান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংস্থার (জেএসটি) অর্থায়নে প্রকল্পটি পরিচালিত হবে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) ‘হাওরের বন্যা পূর্ব সতর্কীকরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প’ শীর্ষক এ গবেষণা প্রকল্পের উদ্বোধন করেন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

এ সময় জাপান থেকে কাগাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তোরু তেরাওয়ের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি গবেষক দল উপস্থিত ছিল।

গবেষক দলের অন্য সদস্যরা হলেন কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তাইচি হায়াশি, টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কিগুচি মাসাশি এবং টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প সহকারী অধ্যাপক ড. মো. রেজোয়ানুল ইসলাম ফাহিম।

প্রকল্পটি বাংলাদেশের পক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফাতিমা আক্তার এবং জাপানের পক্ষে কাগাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তোরু তেরাও যৌথভাবে প্রধান গবেষক হিসেবে পরিচালনা করছেন।

গবেষণা প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশের হাওরাঞ্চলে বন্যার পূর্বাভাস ও পূর্ব সতর্কীকরণ ব্যবস্থা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিশেষ করে আকস্মিক বন্যাপ্রবণ হাওরাঞ্চলে বন্যার পূর্বাভাস আরও নির্ভুল ও কার্যকর করার পাশাপাশি জনগোষ্ঠী, কৃষি, জীবিকা ও অবকাঠামোর ওপর বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমাতে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও প্রযুক্তিকে বাস্তবভিত্তিক ব্যবস্থায় রূপ দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, উন্নত গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ-জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের বন্যা পূর্ব সতর্কীকরণ ব্যবস্থাকে আরও নির্ভরযোগ্য, কার্যকর ও টেকসই করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ গবেষণা প্রকল্পের মাধ্যমে তরুণ গবেষক ও শিক্ষার্থীদের উন্নত গবেষণায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও জাপানের গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময়ের সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রকল্পটিতে বাংলাদেশ ও জাপানের একাধিক প্রতিষ্ঠান অংশীদার হিসেবে যুক্ত রয়েছে। বাংলাদেশের অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বিডব্লিউডিবি), বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি), দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর (ডিডিএম), স্পারসো, সার্ভে অব বাংলাদেশ (এসওবি) এবং ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম)।

জাপানের অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে কাগাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়, টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়, কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয় এবং কোচি বিশ্ববিদ্যালয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে এ গবেষণা বাংলাদেশে বন্যা ব্যবস্থাপনা ও পূর্ব সতর্কীকরণ সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জলবায়ু ও দুর্যোগজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

আরটি/এমএমকে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *