বন্যা পুনর্বাসনে সরকার-এনজিও সমন্বয়ের মডেল: অর্থমন্ত্রী


দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও এনজিওগুলো ‘গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে’ বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করা এবং অপচয় ও দুর্নীতি রোধে সরকার, বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর সমন্বয়ে অংশীদারত্বভিত্তিক একটি মডেল গড়ে তোলা হচ্ছে।

“যে কোনো দুর্যোগে সরকার সবসময় ‘ফার্স্ট রেসপন্ডার’ হিসেবে জরুরি সহায়তা প্রদান করে থাকে। তবে পরবর্তী সময়ে শিক্ষা বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তাসহ দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসনের বৃহত্তর কাজগুলো অংশীদারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আরও কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব।”

রোববার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে ‘বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য মানবিক সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম’ শীর্ষক কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছিলেন অর্থমন্ত্রী। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ব্র্যাক ওই অনুষ্ঠানের বিস্তারিত তুলে ধরেছে।

আমির খসরু বলেন, “দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে সরকারের উদ্যোগের পরেও যে শূন্যস্থানগুলো থাকে, এইচএসবিসি এবং ব্র্যাকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে এসে তা পূরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

“এই সম্মিলিত উদ্যোগই একটি সফল পুনর্বাসন কার্যক্রমের চাবিকাঠি।”

চট্টগ্রাম বিভাগের সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে ব্র্যাকের সঙ্গে অংশীদারত্ব করেছে এইচএসবিসি বাংলাদেশ। এর আওতায় এইচএসবির দেওয়া ১০ কোটি টাকায় সাত মাসে পুনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে ব্র্যাক।কর্মসূচির আওতায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি ও স্কুল মেরামত, জীবিকা ও কৃষি কার্যক্রম পুনরুদ্ধার এবং নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড, চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলা এবং কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে কার্যক্রমটি পরিচালনা করা হবে।

এর আওতায় ৫০টি বন্যাকবলিত স্কুল মেরামত ও পুনর্বাসন করা হবে এবং ১০ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হবে।

পাশাপাশি ২৫০টি ক্ষতিগ্রস্ত ঘর মেরামত বা পুনর্নির্মাণ, ৪০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পারিবারিক ল্যাট্রিন মেরামত বা পুনর্নির্মাণ এবং ৩০টি ক্ষতিগ্রস্ত নলকূপ মেরামত ও পুনর্বাসন করা হবে।

এ ছাড়া ৩০০টি পরিবারের জীবিকা পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় সম্পদ ও উপকরণ এবং ৬০০টি পরিবারকে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা বাড়াতে কৃষি উপকরণ দেওয়ার কথা জানিয়েছে ব্র্যাক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক স্বরূপ কুমার চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার ড. জিয়া উদ্দিন, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব উর রহমান এবং ব্র্যাকের দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির পরিচালক মো. লিয়াকত আলী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

টানা ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে জুলাইয়ে চট্টগ্রামসহ দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বন্যা ও পাহাড়ধসের পরিস্থিতি তৈরি হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ১১ জুলাইয়ের হিসাবে, সাত জেলায় ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন।

ওই দুর্যোগে ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পানির উৎস, স্যানিটেশন ব্যবস্থা ও কৃষি খাতে ক্ষয়ক্ষতি হয়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে এখন বিভিন্ন পুনর্বাসন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *