বলিউডের অন্ধকার দিক, টাকার বিনিময়ে যেভাবে গুজব ছড়ানো হয়


একটি সিনেমা মুক্তির আগে তার বিরুদ্ধে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করা, কোনো তারকার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিতর্ক ছড়ানো কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বীকে নিয়ে একটি নির্দিষ্ট বয়ান প্রতিষ্ঠা করা—এসবের জন্য দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন প্রচারণা চালানো হতে পারে।
ফলে প্রশ্ন উঠছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমরা যা দেখছি, তার কতটা সত্যিকারের জনমত?

বিজ্ঞাপনও রেহাই পায় না
এ ধরনের প্রচারণার লক্ষ্য শুধু সিনেমা বা তারকা নন। বিজ্ঞাপনও এর শিকার হতে পারে। প্রতিবেদনে কৃতি শ্যাননের একটি রাখিবন্ধনভিত্তিক বিজ্ঞাপনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অনলাইনে সেটি ব্যাপক নেতিবাচক প্রচারণার মুখে পড়ে। শেষ পর্যন্ত বিজ্ঞাপনটি প্রত্যাহার করতে হয়।

একটি বিজ্ঞাপন বা সিনেমার মান নিয়ে সমালোচনা হওয়া অবশ্যই স্বাভাবিক। কিন্তু যখন একই ধরনের বক্তব্য শত শত বা হাজারো অ্যাকাউন্ট থেকে পরিকল্পিতভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, তখন সেটি আর সাধারণ সমালোচনার পর্যায়ে থাকে না।
অভিযোগ আছে, চলচ্চিত্র সমালোচকদের বিরুদ্ধেও কখনো কখনো সংগঠিত ট্রোলিং চালানো হয়। কোনো সমালোচনা পছন্দ না হলে ব্যক্তিগত আক্রমণ, পুরোনো পোস্ট খুঁজে বের করা কিংবা তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার ঘটনা ঘটছে।

মানসিক চাপের মুখে শিল্পীরা
এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হয় যাঁদের লক্ষ্য করা হয়, তাঁদের। অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা বোস জানিয়েছেন, তিনি শুধু প্রকাশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে নয়, ব্যক্তিগত বার্তাতেও হয়রানির শিকার হয়েছেন। রাজনৈতিক মতপ্রকাশের পর তাঁর ও তাঁর সঙ্গীর ব্যক্তিগত ইনবক্সেও আক্রমণ শুরু হয়।

অনলাইন আক্রমণ অনেক সময় পর্দার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। সেটি পরিবার, সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার উদ্বেগ পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে।

অভিনয় প্রশিক্ষক ও নির্মাতা অতুল মঙ্গিয়ার মতে, ভারতে অন্তত এক দশক ধরে এ ধরনের পেইড ট্রোলিংয়ের অভিযোগ রয়েছে। অনেক সময় প্রচারণার ধরন এতটাই পরিকল্পিত থাকে যে সেটি সহজেই চোখে পড়ে। কিন্তু পরিস্থিতি যখন শিল্পীর পরিবার কিংবা ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করতে শুরু করে, তখন বিষয়টি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *