বুলবুল আহমেদের জানা-অজানা অধ্যায়
তাবাররুক আহমেদের জন্ম ১৯৪১ সালের ৪ সেপ্টেম্বর পুরান ঢাকার আগামসি লেনে; যাকে সবাই নায়ক বুলবুল আহমেদ নামে চেনেন। মঞ্চ, টিভি, চলচ্চিত্র—সব মাধ্যম দাপিয়ে বেড়িয়েছেন বরেণ্য এই অভিনেতা। ষোল বছর আগে সবাইকে কাঁদিয়ে পরপারে পাড়ি জমান তিনি। কিংবদন্তি এই তারকার জানা-অজানা কিছু অধ্যায় নিয়ে এই প্রতিবেদন—
কবিতা আবৃত্তি করতেন বুলবুল অহমেদ। বাংলাদেশ টেলিভিশন চালু হওয়ার পর নিয়মিত নাটকে অভিনয় শুরু করেন। তার অভিনীত প্রথম টিভি নাটক আবদুল্লাহ আল মামুনের ‘পূর্বাভাস’। ‘ইডিয়েট’ নাটকের জন্য দর্শক হৃদয়ে আজও ঝলমলে বুলবুল
১৯৫৮ সালে মঞ্চনাটকের মাধ্যমে বুলবুল আহমেদের অভিনয় জীবনের সূচনা। সিলেটের এমসি কলেজের বার্ষিক অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষ রক্ষা’ নাটকে মূল চরিত্র ‘গদাই’ রূপায়ন করেন। মুম্বাইয়ের দিলীপ কুমার আর কলকাতার উত্তম কুমার, নায়িকা মধুবালা, নার্গিস ও সুচিত্রা সেন তার বিশেষ পছন্দের তালিকায় ছিলেন
কয়েকজন বন্ধু মিলে ‘শ্যামলী শিল্পী সংঘ’ নামে একটি নাট্যগোষ্ঠী গঠন করেন বুলবুল আহমেদ। ব্রিটিশ কাউন্সিল মিলনায়তনে নীহাররঞ্জন গুপ্তের ‘উল্কা’ নাটকটি মঞ্চস্থ করার মধ্য দিয়ে দলটির যাত্রা শুরু। নাটকটিতে ‘সুবীর’ চরিত্রে অভিনয় করেন বুলবুল আহমেদ। পরবর্তীতে শ্যামলী শিল্পী সংঘের বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করেন। এ তালিকায় রয়েছে—‘কানাকড়ি’, ‘বারো ঘণ্টা’, ‘মানচিত্র’, ‘গোধূলির প্রেম’, ‘অ্যালবাম’।
ফওজিয়া পারভীন ডেইজি ও বুলবুল আহমেদ ছোটবেলা থেকেই পরিচিত ছিলেন। বন্ধুত্ব থেকে সেই সম্পর্ক প্রেমে রূপ নেয়। ভালোবেসে দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তারা। এ দম্পতির এক ছেলে, দুই কন্যা
টিভি নাটকে বুলবুল আহমেদের গুরু আবদুল্লাহ ইউসুফ ইমাম। ১৯৬৮ সালে ‘পূর্বাভাস’ নাটকের মধ্য দিয়ে তার টিভি নাটকে অভিনয়ের শুরু। ‘দূরদর্শীনী’ নাটকে বুলবুল আহমেদের সঙ্গে তার স্ত্রীও সহশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেন। রাজধানীর রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশনের উদ্বোধনী দিনে নাটকটি প্রচার হয়েছিল। তিনশতাধিক নাটকে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন বুলবুল আহমেদ। তবে জহির রায়হানের উপন্যাস ‘বরফ গলা নদী’-তে ‘কায়েস’ চরিত্রে অভিনয় করে সবার নজর কাড়েন
আবদুল্লাহ ইউসুফ ইমামের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ১৯৭৩ সালে ‘ইয়ে করে বিয়ে’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে রুপালি পর্দায় পা রাখেন বুলবুল আহমেদ। মঞ্চ, রেডিও, টিভি নাটকে অভিনয়ের ক্ষেত্রে পরিবারের সমর্থন থাকলেও চলচ্চিত্রে কাজের ব্যাপারে স্ত্রী ডেইজি বেঁকে বসেন। শ্বাশুড়ি লতিফা খানের কারণে সে যাত্রায় পার পেয়ে যান। স্ত্রীকে কথা দিয়েছিলেন—শখের বশে একটি বা দুটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করবেন। ‘ইয়ে করে বিয়ে’ করার সময় তাবাররুক নাম বদলে ‘বুলবুল’ রাখেন পরিচালক আবদুল্লাহ ইউসুফ ইমাম
বুলবুল আহমেদের দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ‘অঙ্গীকার’। এতে তার বিপরীতে অভিনয় করেন কবরী। দিন দিন তার অভিনয়ের নেশাটা বাড়তে থাকায় স্ত্রী ডেইজিকে দেয়া কথা রাখতে পারেননি বুলবুল আহমেদ। যত সময় গড়াতে থাকে ততই তার শখের অভিনয়, নেশা থেকে পেশায় পরিণত হয়।
বুলবুল আহমেদ অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে—সত্তর ও আশির দশকে আলমগীর কবিরের ‘ধীরে বহে মেঘনা’ (১৯৭৩), ‘সূর্য কন্যা’ (১৯৭৫), ‘সীমানা পেরিয়ে’ (১৯৭৭), ‘রূপালী সৈকতে’ (১৯৭৯), ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’ (১৯৮১), ‘মোহনা’ (১৯৮২), ‘দেবদাস’ (১৯৮২), ‘পুরস্কার’ (১৯৮৩), ‘মহানায়ক’ (১৯৮৪) প্রভৃতি
