ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানের যোগদানের বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য নেই: জয়সওয়াল


নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যোগদানের বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে একথা বলেন তিনি।

আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন করতে চলেছে ভারত, যা প্রধান উদীয়মান বাজার অর্থনীতি এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর দ্রুত বিকশিত আন্তঃসরকারি ফোরামের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ব্রিকসের আউটরিচ অধিবেশনে যোগদানের জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সেই হিসাবে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আর মাত্র চার দিন বাকি থাকলেও, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নয়াদিল্লিতে ব্রিকস আউটরিচ অধিবেশনে যোগ দেবেন কি না, নির্দিষ্টভাবে এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে জয়সওয়াল সাংবাদিকদের বলেন, “এ বিষয়ে আমার কাছে কোনো নতুন তথ্য নেই।”

তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন দেশ ও রাষ্ট্র প্রধানদের অংশগ্রহণের বিষয়ে মন্ত্রণালয় হালনাগাদ তথ্য জানাবে। অংশগ্রহণের বিষয়ে আমরা আপনাদের অবহিত করব। তবে এই মুহূর্তে আমি বলব, অনুগ্রহ করে আমাদের পক্ষ থেকে পরবর্তী ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করুন।’

ঢাকায় বাংলাদেশ রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর মধ্যে বৈঠকে তারেকের অংশগ্রহণ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে জয়সওয়াল বলেন, বৈঠকটি মূলত একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল।

জয়সওয়াল বলেন, “আমাদের হাই কমিশনার বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন, যেখানে তারা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিভিন্ন দিক, আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক, জনগণের মধ্যে সম্পর্ক এবং আগামী দিনে এই বিশেষ সম্পর্ককে কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই, তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। বৈঠকটি মূলত সৌজন্যবোধের ওপর কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কিছু নির্দিষ্ট দিক নিয়েও আলোচনা হয়েছে।”

দুই বছর স্থগিত থাকার পর ভারত ও বাংলাদেশ অক্টোবর থেকে আন্তঃসীমান্ত যাত্রীবাহী ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা করছে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে চাইলে জয়সওয়াল বলেন,  “এ বিষয়ে আমার কাছে নতুন কোনো তথ্য নেই।”

এদিন ভারত-চীন সম্পর্কের বিষয়ে জওসওয়াল বলেন, “ভারত-চীন সম্পর্ক ধীরে ধীরে ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে।” গত ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর চিন ও ভারতের অরুণাচল প্রদেশের ওয়াচা-দামাই সীমান্ত মিলনস্থলে পূর্বাঞ্চলে ভারত ও চীনের সর্বপ্রথম কোর কমান্ডার-স্তরের বৈঠকের পর জয়সওয়াল এই মন্তব্য করলেন। 

নেপালের দুর্যোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারত নেপালের জনগণ ও সরকারের প্রতি সংহতি ও সমবেদনা জানাচ্ছে। ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও প্রতিবেশী হিসেবে ভারত তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদান করেছে এবং ত্রাণ, উদ্ধার ও পুনর্গঠন কার্যক্রমে নেপালকে সমর্থন অব্যাহত রাখবে। ভারত এ পর্যন্ত সাতটি বিমানের মাধ্যমে ৯৫ টন ত্রাণ সামগ্রী পাঠিয়েছে এবং শিগগির আরও পাঠানো হবে।

তিনি জানান, ভারতের ফরেনসিক দল এবং টানেল উদ্ধারকারী দল নেপালে ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করছে। ফরেনসিক দলটি কাঠমান্ডুর দুটি পরীক্ষাগারে প্রায় ১ হাজার ২০০টি ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা করছে। জয়সওয়ালের মতে, এই দুর্যোগে ২৭৫ জন ভারতীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন এবং এখন পর্যন্ত ১৬৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে চীনের দিকে থাকা ৪৯ জনও রয়েছেন।

পাকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৭ সালের দক্ষিণ এশীয় ফেডারেশন (এসএএফ) গেমসে ভারতের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র জানান, যেকোনো আন্তর্জাতিক বা বহুপাক্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ভারতের অংশগ্রহণ ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং যুব বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত নীতিমালা অনুসারেই নির্ধারিত হয়। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলোর নির্দেশিকা এবং ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের স্বার্থও এক্ষেত্রে বিবেচনায় রাখা হয়।





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *