ভারত প্রশ্নে বাংলাদেশের কৌশল কী হতে পারে


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে আরেকটি বড় বিষয় হলো দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি। বড় প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেওয়া শুধু সরকার বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিষয় নয়; এর সঙ্গে সংসদ, প্রতিরক্ষানীতি ও মানুষের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ জড়িত। আজ একটি সরকার যে নিরাপত্তা দায় নেবে, কাল অন্য সরকারকেও তা বহন করতে হতে পারে। তাই তাৎক্ষণিক লাভের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক মূল্যও দেখতে হবে। 

বাংলাদেশের বিকল্প যত বাড়বে, দিল্লির সঙ্গে দর-কষাকষির জায়গাও বাড়তে পারে। কিন্তু ভারতকে চাপ দেওয়ার অস্ত্র হিসেবে সেই বিকল্পকে ব্যবহার করলে উল্টো ফল হতে পারে। দিল্লি তখন বাংলাদেশের নতুন সম্পর্কগুলোকে নিজের বিরুদ্ধে জোট হিসেবে দেখতে পারে। দর-কষাকষির শক্তি আর কাউকে কোণঠাসা করা এক কথা নয়।

তারেক রহমানের পরীক্ষাটা তাই খুব সহজ নয়। শত্রু নয়, নতুন বন্ধু তৈরি করতে হবে। সুযোগ নিতে হবে, কিন্তু এমন দায় নয়, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের হাত বেঁধে দেবে। দিল্লির সঙ্গে সহযোগিতা থাকবে, আবার অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার স্বাধীনতাও থাকবে। ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’-এর আসল পরীক্ষা সম্ভবত এখানেই। 

মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন শিকদার শিক্ষক ও গবেষক, রাষ্ট্র ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়

* মতামত লেখকের নিজস্ব



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *