ভূপেন হাজারিকার গানে মানুষের হাহাকার
নদী বয়ে যাচ্ছে। দুই পারে মানুষের বসতি। কিন্তু সেখানে গরিবি, খিদে, বঞ্চনা। নাগরিক সেবা নেই, মৌলিক অধিকার যেন অলীক বস্তু। নদী তবু বয়ে যায়। মানুষের দুঃখ–দুর্দশা তার স্রোত থামিয়ে দিতে পারে না। একদিন নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে একজন প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন—তুমি এত ‘নির্লিপ্ত’ কেন?
প্রশ্নটি আসলে নদীর জন্য নয়, আমাদের জন্য। সমাজের জন্য, রাষ্ট্রের জন্য, আমাদের বিবেকের জন্য।
এমন অস্বস্তিকর প্রশ্ন করার এবং সেই প্রশ্নের মীমাংসার দাবি করা মানুষটির নাম ভূপেন হাজারিকা। তাই তাঁকে শুধু গায়ক, গীতিকার বা সুরকার বললে পরিচয় অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তিনি এমন একজন শিল্পী, যাঁর গান শুনতে শুনতে শ্রোতা নিজের অজান্তেই সমাজের আয়নার সামনে দাঁড়ায়; ভাঙাচোরা প্রতিকৃতি দেখতে পায়, দেখে চমকে ওঠে!
ভূপেন হাজারিকার গানে যেমন নদী আছে, আছে নদীপারের ক্ষুধার্ত মানুষ; প্রেম আছে, ‘প্রেমহীন’ সমাজের বিরুদ্ধে আছে তীক্ষ্ণ উচ্চারণ। তাঁর গান কখনো চোখে বালুকণা পড়ার মতো অস্বস্তি দেয়, কখনো আবার চোখ খুলে দেয়।
মহান এই শিল্পীর জন্মের শতবর্ষে তাঁকে নিয়ে শত শত কথাও বলার পরও নিশ্চিত ‘অন্তরে অতৃপ্তি রবে’। এ কারণেই তাঁর গান কালোত্তীর্ণ।
