মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে: জাতিসংঘ


মিয়ানমারে মানবাধিকার পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে এবং রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক দপ্তরের প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাতে আজ মঙ্গলবার(২৫ আগস্ট) বার্তাসংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।

এএফপি জানায়, ২০২৫ সালের ১ জুন থেকে চলতি বছরের ৩১ মে পর্যন্ত মিয়ানমারের মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক দপ্তর। এতে সহিংসতা, অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের মধ্যে যোগসূত্র তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত পাঁচ বছরে সামরিক বাহিনী, গণতন্ত্রপন্থী ও বিভিন্ন জাতিগত সংখ্যালঘু বিদ্রোহীদের মধ্যে চলমান সংঘাতে এক লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জাতিসংঘ জানায়, ভয় ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সামরিক কৌশল এখন মিয়ানমারের মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়েছে। নজরদারি বাড়াতে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারও এতে সহায়তা করছে।

সাধারণ মানুষের ওপর সামরিক বাহিনীর সহিংসতার বিষয়টিও তুলে ধরা হয় প্রতিবেদনে। এর মধ্যে নিয়মিত বিমান হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং মানুষকে বাস্তুচ্যুত করার ঘটনা রয়েছে।

বলা হয়, নিয়ন্ত্রণ ও বৈধতা প্রতিষ্ঠার জন্য সামরিক বাহিনীর অব্যাহত প্রচেষ্টা মানবিক সংকটকে আরও গভীর করেছে। অবৈধ খনন, মাদক উৎপাদন, মানবপাচার এবং অনলাইন প্রতারণাকেন্দ্রের কারণেও এই সংকট বাড়ছে বলে জানায় জাতিসংঘ।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক। ছবি: ফাইল

সংস্থাটির মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক এ বিষয়ে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই প্রতিবেদন পুরো দেশজুড়ে বিভিন্ন পর্যায়ে মানুষের দুর্ভোগ, দুর্দশা ও নিষ্ঠুরতার এমন এক চিত্র তুলে ধরেছে, যা হৃদয়বিদারক।’

তিনি বলেন, ‘আমি সব রাষ্ট্র, কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীর প্রতি আহ্বান জানাই, তারা যেন নিজেদের কর্মকাণ্ড বা নিষ্ক্রিয়তার বিষয়ে আত্মসমালোচনা করেন এবং প্রশ্ন করেন—মিয়ানমারের মানুষের জন্য এ অবস্থা ন্যায়সংগত ও সুবিচারপূর্ণ কিনা?’

২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে দিয়ে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা। এর মধ্য দিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও মানবিক সংকটে নিমজ্জিত হয় দেশটি। চলতি বছরের এপ্রিলে অভ্যুত্থানের নেতা মিন অং হ্লাইং মিয়ানমারের বেসামরিক প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন। বর্তমানে অভ্যুত্থান পরবর্তী আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে উঠতে এবং বিদেশে কূটনৈতিক স্বীকৃতি আদায় করতে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছেন মিন অং হ্লাইং।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসআইপি





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *